ক্রিকেট ইতিহাসে শেন ওয়ার্ন শুধু একজন সফল লেগ স্পিনার নন, তিনি ছিলেন বোলিং শিল্পের অন্যতম বড় প্রতীক। বল ঘোরানোর অসাধারণ ক্ষমতা, ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করার কৌশল এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁকে নিয়ে গেছে কিংবদন্তির পর্যায়ে। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা অর্জন ও রেকর্ডকে যদি সংখ্যায় দেখা হয়, তাহলে উঠে আসে একের পর এক বিস্ময়কর তথ্য।
১০০১ : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ার্নের মোট উইকেট। তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট শুধু মুত্তিয়া মুরালিধরনের (১৩৪৭)। ২০০৭ সালে সিডনিতে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টেই চার অঙ্কের এই জাদুকরি মাইলফলকে পৌঁছান ওয়ার্ন।
৭০৮ : টেস্ট ক্রিকেটে ওয়ার্নের শিকার। এই সংস্করণে মুরালিধরনের (৮০০) পর যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ৬০০ ও ৭০০ উইকেটের চূড়ায় পা রেখেছিলেন তিনি।
৩৭ : টেস্টে এক ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন ৩৭ বার। এখানেও তাঁর সামনে শুধু মুরালিধরন, যিনি ৬৭ বার ইনিংসের অর্ধেক ব্যাটসম্যানকে একাই ফিরিয়েছেন। পাশাপাশি ১০টি টেস্টে ম্যাচে ১০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে ওয়ার্নের।
২১ : ব্যাটসম্যানকে ‘কট অ্যান্ড বোল্ড’ করে ফিরিয়েছেন ২১ বার। ড্যানিয়েল ভেট্টোরির সঙ্গে যৌথভাবে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। সামনে শুধু অনিল কুম্বলে ও মুরালিধরন (৩৫)।
১৭৬১ : টেস্টে মেডেন ওভারের সংখ্যা। কোনো রান না দিয়ে ওভার শেষ করার তালিকায় টেস্ট ইতিহাসে তিনি দ্বিতীয়। শীর্ষে থাকা মুরালিধরনের মেডেন ১৭৯৪টি।
৮ : ২০০২ সালে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের ১০০তম টেস্টে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। শততম টেস্টে ম্যাচ পরিসংখ্যানে যা দ্বিতীয় সেরা। রেকর্ডটি মুরালিধরনের, ২০০৬ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি নিয়েছিলেন ৯ উইকেট।
১৯৫ : অ্যাশেজের ইতিহাসে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক ওয়ার্ন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্লেন ম্যাকগ্রার (১৫৭) চেয়ে যা ৩৮টি বেশি। টেস্টে নির্দিষ্ট একটি দলের বিপক্ষেও এটি কোনো বোলারের সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড।
১৩৮ : টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে শিকার করেছেন ১৩৮ উইকেট। ম্যাচের শেষ ইনিংসে এত উইকেট নেই আর কারও, এমনকি মুরালিধরন (১০৬) বা সতীর্থ ম্যাকগ্রারও (১০৩) নয়। ১৯৯৪ সালে ব্রিসবেনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭১ রানে ৮ উইকেট নেওয়া ক্যারিয়ার সেরা বোলিংটিও এসেছিল ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে।
১০২ : টেস্টে ১০২ বার ব্যাটসম্যানকে শূন্য রানে আউট করেছেন ওয়ার্ন। মুরালিধরনের সঙ্গে যৌথভাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বেশি ১০৪ বার শূন্য রানে ফিরিয়ে শীর্ষে ম্যাকগ্রা।
২৮ : ২৮ বছর ১১৪ দিন বয়সে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন ওয়ার্ন। ৩০ জন ৩০০ উইকেট শিকারির মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ। সর্বকনিষ্ঠ ভারতের কপিল দেবের, যিনি ২৮তম জন্মদিনের পরদিনই এ কৃতিত্ব গড়েছিলেন।
১২৫ : টেস্টে ফিল্ডার হিসেবে ক্যাচ নিয়েছেন ১২৫টি। ইয়ান বোথামের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ৩০০ উইকেট ও ১০০ ক্যাচের জোড়া কীর্তি গড়েন তিনি। বোথামের ১২০ ক্যাচের বিপরীতে উইকেট ছিল ৩৮৩টি, যেখানে ওয়ার্নের ৭০৮ উইকেটের পাশে ১২৫ ক্যাচ।
১৭ : টেস্টে ১৭ বার হয়েছেন ম্যাচসেরা। ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে যা যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। সামনে জ্যাক কালিস (২৩) ও মুরালিধরন (১৯)।
৩১৫৪ : সেঞ্চুরি না করে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ড তাঁর। দুবার নব্বইয়ের ঘরে গিয়েও সেঞ্চুরির দেখা পাননি। ২০০১ সালে পার্থে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ড্যানিয়েল ভেট্টোরির বলে ৯৯ রানে আউট হন মার্ক রিচার্ডসনের ক্যাচে। আর ২০০৫ সালে ম্যানচেস্টারে সাইমন জোন্সের বলে ৯০ রানে তাঁকে ফেরান অ্যাশলি জাইলস।
শেন ওয়ার্নের ক্যারিয়ারকে তাই শুধু উইকেটের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা কঠিন। ১০০১ আন্তর্জাতিক উইকেট থেকে শুরু করে টেস্টে ৭০৮ শিকার, ৩৭ বার পাঁচ উইকেট এবং চতুর্থ ইনিংসে ১৩৮ উইকেট—প্রতিটি সংখ্যা তাঁর বোলিংয়ের আলাদা একটি অধ্যায়ের গল্প বলে। ক্রিকেট ইতিহাসে তাঁর অবস্থান কতটা অনন্য, এসব পরিসংখ্যানই তার শক্তিশালী প্রমাণ।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।