ময়মনসিংহ মহানগরী ও সংলগ্ন এলাকায় হামের (Measles) সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। আজ রোববার সকাল ৯টায় নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান। নগরের ৫৮ হাজার ৬৬৮ জন শিশুকে এই বিশেষ ‘ক্যাম্পেইন’-এর আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলমান এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি আজ থেকে শুরু হয়ে আগামী ১২ মে পর্যন্ত চলবে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার এই কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। নগরের ৩৩টি ওয়ার্ডে মোট ৭০টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হামের প্রতিষেধক প্রদান করা হবে।
হামের ভয়াবহতা কতটা প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার চিত্র উঠে এসেছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিসংখ্যানে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ২৬টি শিশু হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জেলার গৌরীপুর ও ফুলপুর উপজেলার যথাক্রমে ৯ মাস ও ১০ মাস বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত মোট ৩৯৭টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৬ দিনে ১২ শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৭৩টি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নগরের পন্ডিতপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম তাঁর সাড়ে চার বছরের ছেলে হাসিবুল হাসিবকে নিয়ে এসেছিলেন টিকা দিতে। তিনি বলেন, “চারপাশে হামের খবর শুনে খুব চিন্তিত ছিলাম। সরকার যেহেতু উদ্যোগ নিয়েছে, তাই সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে টিকা দিয়ে গেলাম।” একইভাবে চার বছর বয়সী তাসফিন তাজওয়ারের মা লাভলী আক্তারও জানালেন তাঁর আতঙ্কের কথা। নিয়মিত সব টিকা দেওয়া থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি তিনি।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান বলেন, “আমরা এই লক্ষ্যমাত্রার বাইরেও যদি কোনো শিশু পাই, তাকেও টিকার আওতায় আনব। মাঠপর্যায়ে আমাদের ৭০টি দল কাজ করছে। নগরজুড়ে মাইকিং এবং মসজিদের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এটি এখন একটি জাতীয় সমস্যা এবং টিকাদানই এর একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। আমরা আশাবাদী, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের শিশুরা নিরাপদ থাকবে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ রুখতে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। ময়মনসিংহে যে হারে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, তাতে এই বিশেষ কর্মসূচি শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা থেকে রক্ষা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।