প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আমাদের জীবন সহজ হলেও বেড়েছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে চরম ঝুঁকি। বিশেষ করে ‘স্মার্ট চশমা’ বা স্মার্ট গ্লাসের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক নতুন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চট করে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, সামনের ব্যক্তিটি কি সাধারণ চশমা পরে আছেন নাকি উন্নত ক্যামেরাযুক্ত কোনো ডিভাইস দিয়ে আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করছেন। এই ডিজিটাল নজরদারি থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে ‘নিয়ারবাই গ্লাসেস’ (Nearby Glasses) নামে একটি অনন্য অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করেছেন উদ্ভাবক ইভ জঁরেনো। তাঁর দাবি, এই অ্যাপটি ব্যবহারকারীর আশপাশে থাকা স্মার্ট চশমা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’ লঙ্ঘনের এই শঙ্কা এখন আর কেবল তাত্ত্বিক পর্যায়ে নেই। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা-র তৈরি ‘রে-ব্যান স্মার্ট চশমা’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, এই ধরণের ডিভাইস ব্যবহার করে মানুষের অজান্তেই সংবেদনশীল ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক প্রভাবশালী পোর্টাল টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মার্ট চশমার মতো প্রযুক্তি যদি নিয়ন্ত্রিত না হয়, তবে এটি এক সময় ‘ভয়ংকর প্রযুক্তি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। মূলত এমন উদ্বেগ থেকেই ইভ জঁরেনো এই অ্যাপটি তৈরির কথা ভেবেছেন, যা জনসমক্ষে মানুষের নিরাপত্তাহীনতা কিছুটা হলেও লাঘব করবে।
স্মার্ট চশমার নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সম্প্রতি আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য কেনিয়ায় কর্মরত প্রযুক্তিকর্মীরা স্মার্ট চশমা দিয়ে ধারণ করা অসংখ্য ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছেন। সুইডেনের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেসব ভিডিওর মধ্যে এমন সব দৃশ্য রয়েছে যা চরমভাবে আপত্তিকর ও ব্যক্তিগত। সেখানে দেখা গেছে মানুষ টয়লেটে যাচ্ছেন, পোশাক পরিবর্তন করছেন কিংবা একান্তই ব্যক্তিগত সময় কাটাচ্ছেন। প্রতিবেদনে একজন কর্মীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “ভিডিওর বিষয়বস্তু দেখে মনে হয় না যে ওই ব্যক্তিরা জানতেন তাঁদের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। জানলে নিশ্চয়ই তাঁরা এমন পরিস্থিতির শিকার হতেন না।”
উদ্ভাবক ইভ জঁরেনোর মতে, ‘নিয়ারবাই গ্লাসেস’ অ্যাপটি মূলত ব্লুটুথ সংকেত বা সিগন্যাল শনাক্ত করার মাধ্যমে কাজ করে। মেটা বা স্ন্যাপের তৈরি প্রতিটি স্মার্ট চশমা থেকে এক ধরণের নির্দিষ্ট ব্লুটুথ সিগন্যাল নির্গত হয়। এই অ্যাপটি সেই সংকেত পেলেই ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনে একটি অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেয়। তবে এই আধুনিক প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ব্লুটুথ সিগন্যালের সাদৃশ্যের কারণে অ্যাপটি অনেক সময় স্মার্ট চশমা ছাড়াও মেটার অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসকে ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। তা সত্ত্বেও, বর্তমান সময়ে যেখানে গোপন ক্যামেরার ভয় সর্বত্র বিরাজমান, সেখানে এমন একটি অ্যাপ সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল ঢাল হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।