স্কুটি নাকি স্কুটার: দুই চাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশি নারীদের প্রথম পছন্দ কোনটি?

স্কুটি নাকি স্কুটার: দুই চাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশি নারীদের প্রথম পছন্দ কোনটি?

যান্ত্রিক এই নগরে যানজটের দুঃসহ যন্ত্রণা এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দুই চাকার যানবাহনের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে ব্যক্তিগত যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে স্কুটি ও স্কুটার ব্যবহারের প্রবণতা এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্কুটি ও স্কুটার শব্দ দুটি প্রায়ই সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, প্রযুক্তিগত নকশা, ইঞ্জিনের সক্ষমতা এবং ব্যবহারিক দিক থেকে এ দুটির মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক।


মূলত ইঞ্জিনের ক্ষমতা, বাহনের আকার এবং বিপণন কৌশলের ওপর ভিত্তি করেই এই দুই যানের নামকরণ আলাদা করা হয়। প্রযুক্তিগতভাবে স্কুটার হলো একটি শক্তিশালী ও সুগঠিত বাহন। এর চেসিস বা কাঠামো তুলনামূলক শক্ত হয় এবং এতে শক্তিশালী ইঞ্জিন সংযুক্ত থাকে। অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ার কারণে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে কিংবা হাইওয়ে বা মহাসড়কে চলাচলের জন্য স্কুটার অত্যন্ত উপযোগী। এর চাকা বড় হওয়ায় উচ্চ গতিতেও ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়। তবে ওজনে ভারী হওয়ায় নতুন চালকদের জন্য এটি সামলানো কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।


বিপরীতে, স্কুটি হলো স্কুটারের একটি হালকা ও ছোট সংস্করণ। এর ডিজাইন বা নকশা এমনভাবে করা হয় যেন এটি শহরের সরু গলিতে বা যানজটপূর্ণ রাস্তায় সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্কুটির ইঞ্জিনের ক্ষমতা সাধারণত কম থাকে, যা স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে অত্যন্ত সাশ্রয়ী। হালকা ওজনের কারণে এটি ঘোরানো কিংবা পার্ক করা যেমন সহজ, তেমনি এর সিট বা বসার জায়গার উচ্চতা কম হওয়ায় খাটো গড়নের চালকদের জন্যও এটি বেশ আরামদায়ক। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ বা মেইনটেন্যান্স খরচের দিক থেকেও স্কুটার অপেক্ষা স্কুটি অনেক বেশি সাশ্রয়ী।


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী চালকদের পছন্দের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে স্কুটি। কর্মজীবী নারী ও উচ্চশিক্ষারত ছাত্রীরা যাতায়াতের জন্য এখন কারো ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্কুটিকেই বেছে নিচ্ছেন। অনেক নারী চালক জানান, স্কুটি চালাতে তারা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস পান। বিশেষ করে ঢাকার মতো জনাকীর্ণ শহরের ট্র্যাফিকের মাঝে হালকা ওজনের এই বাহনটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। এছাড়া পোশাক ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও স্কুটি নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক। তবে যারা অভিজ্ঞ চালক এবং নিয়মিত অনেক দূর যাতায়াত করেন, তাদের কেউ কেউ স্কুটার ব্যবহারের দিকেও ঝুঁকছেন।


আধুনিক স্কুটি ও স্কুটারের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর গিয়ার সিস্টেম। বর্তমানে প্রায় সব মডেলেই ‘সিভিটি’ (কন্টিনিউয়াসলি ভ্যারিয়েবল ট্রান্সমিশন) বা অটোমেটিক গিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এতে মোটরসাইকেলের মতো পা বা হাতে গিয়ার বদলানোর কোনো ঝামেলা নেই; চালক কেবল থ্রটল বা এক্সিলারেটর ঘোরালেই ইঞ্জিনের গতি অনুযায়ী গিয়ার নিজে নিজেই পরিবর্তিত হয়। বাম হাতে পেছনের ব্রেক ও ডান হাতে সামনের ব্রেক থাকায় এটি পরিচালনা করা অত্যন্ত সহজ। যদিও অতীতে ‘ভেসপা’ বা ‘বাজাজ চেতক’-এর মতো স্কুটারে হাতে গিয়ার পরিবর্তনের ব্যবস্থা ছিল, বর্তমানে সেই ম্যানুয়াল পদ্ধতি আর দেখা যায় না।


পরিচালনাগত সহজলভ্যতা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে ওঠায় বাংলাদেশে স্কুটির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। গত কয়েক বছরে সড়কে নারী চালকদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, যথাযথ বাহন নির্বাচন একজন নারীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে কতটা গতিশীল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে পারে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।