সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় হুথিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: রিয়াদের আকাশে কালো ধোঁয়া, মার্কিন সতর্কতা জারি!

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলবর্তী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সমন্বিতভাবে ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্য করে চালানো এই ব্যাপক হামলার খবর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

হুথিদের এই সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে অবশ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, শনিবার রিয়াদের আকাশসীমায় আঘাত হানার উদ্দেশ্যে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শনাক্ত করে আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস করেছে। এছাড়া এই হামলার ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেনি রিয়াদ প্রশাসন। এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক জোটের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাজধানী ছাড়াও দেশটির বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরে বেসামরিক লোকালয় ও লক্ষ্যবস্তুতে চালানো একাধিক ‘শত্রুতামূলক হামলার চেষ্টা’ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আকাশেই প্রতিহত করেছে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তার মধ্যেও হামলার পর শনিবার রাজধানী রিয়াদের অন্যতম ব্যস্ত বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঠিক কাছাকাছি অবস্থিত তেলের রিজার্ভার বা জ্বালানি ট্যাংক থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে। ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও চারপাশের ঘন ধোঁয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের সীমান্তপারের আক্রমণ বৃদ্ধির পর শনিবার প্রথমবারের মতো রিয়াদ শহরের নিরাপত্তা সাইরেন বা বিমান হামলার সতর্কসংকেত সশব্দে বেজে ওঠে, যা পুরো নগরবাসীকে চমকে দেয়।

হামলার দায় স্বীকার করে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া দাবি করেন, রিয়াদের ‘সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু’ এবং উপকূলীয় নগরী ইয়ানবুতে অবস্থিত সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর মূল স্থাপনা নিশানা করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের অপচেষ্টা এবং গত মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইয়েমেনজুড়ে চালানো প্রায় ৩০০টি সৌদি বিমান হামলার কঠোর ও সমুচিত জবাব দিতেই এই পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের ভেতরের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা বহুগুণ জোরদার করার পাশাপাশি ইয়েমেনের আকাশসীমায় একটি সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার কথাও জোর গলায় দাবি করেছে হুথিরা।

হুথিদের এমন দুঃসাহসিক হামলা ও আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার গভীর শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত এবং সেখানে ভ্রমণের পরিকল্পনায় থাকা নিজস্ব নাগরিকদের সুরক্ষায় জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথিদের লাগাতার হামলায় বেসামরিক বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় যে কোনো সময় বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল এবং দীর্ঘমেয়াদি শিডিউল বিপর্যয় ঘটতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গোটা অঞ্চলে এই সংঘাত আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরব ও এর আশপাশের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ভ্রমণের পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।