কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন সংলগ্ন নীল জলরাশির গভীরে উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন ৯ জন জেলে। মাঝ সমুদ্রে হঠাতই ফিশিং বোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন তারা। অবশেষে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সময়োপযোগী ও দ্রুত তৎপরতায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন এই ৯ মৎস্যজীবী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এই সফল উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিল একটি ফিশিং বোট। সেন্টমার্টিন থেকে প্রায় ১০ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছানোর পর হঠাত করেই সেটির ইঞ্জিন যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। কোনো ব্যাকআপ ব্যবস্থা না থাকায় মাঝ সমুদ্রেই দিকবিদিকহীনভাবে ভাসতে থাকে বোটটি। উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বোট থেকে কোস্টগার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ‘১৬১১১’-এ যোগাযোগ করে সাহায্য চাওয়া হয়।
বিপদসংকেত পাওয়া মাত্রই কোস্টগার্ডের শক্তিশালী জাহাজ ‘জয় বাংলা’ ওই এলাকায় একটি বিশেষ রেসকিউ অপারেশন বা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অবস্থান শনাক্ত করে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ৯ জন জেলেসহ বিকল ফিশিং বোটটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন কোস্টগার্ড সদস্যরা।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে আটকা পড়ে থাকায় জেলেরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। উদ্ধারের পরপরই কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। জেলেরা সুস্থ বোধ করলে পরবর্তীতে ফিশিং বোটসহ তাদের সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কোস্টগার্ডের এমন পেশাদারিত্ব ও মানবিক ভূমিকা উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।