সিরিজ হারের ক্ষতে নতুন আঘাত: আইসিসির বড় শাস্তির মুখে বাবর আজমের পাকিস্তান

 ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে চরম ভরাডুবির পর এবার বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়ল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। মাঠের ব্যর্থতার দুঃসময় যেন কোনোভাবেই পিছু ছাড়ছে না বাবর আজমদের। এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে মন্থর বোলিং বা স্লো ওভার রেটের কারণে গোটা পাকিস্তান দলকে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। একই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল থেকেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে।

এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে আট উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে যায় পাকিস্তান। ম্যাচটিতে নির্ধারিত সময়ের বিভিন্ন ছাড় ও বিরতির হিসাব-নিকাশ বিবেচনা করার পরও দেখা যায়, পাকিস্তান দল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পুরো ১১ ওভার পিছিয়ে ছিল। ফলে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল থেকে পাকিস্তানের ১১ পয়েন্ট কর্তন করা হয়।

ম্যাচটিতে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন পল রাইফেল ও ক্রিস গ্যাফানি। তাঁদের সঙ্গে তৃতীয় আম্পায়ার আল্লাহুদিন পালেকার এবং চতুর্থ আম্পায়ার রাসেল ওয়ারেন নিয়ম লঙ্ঘনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে এমিরেটস আইসিসি এলিট প্যানেল অব ম্যাচ রেফারিজ-এর সদস্য রঞ্জন মাদুগালে এই শাস্তির আদেশ দেন।

পয়েন্ট কেটে নেওয়ার ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থান আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। এই কর্তনের পর বাবর আজমদের পয়েন্টের হার নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৬৩ শতাংশে। ঝুলিতে মাত্র ৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে, অর্থাৎ নবম স্থানে অবস্থান করছে। তালিকার আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজও তাদের চেয়ে ২৫ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।

আইসিসির আচরণবিধির ২.২২ ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার সম্পন্ন করতে না পারলে প্রতি ঘাটতি ওভারের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ হারে জরিমানা করা হয়, যার সর্বোচ্চ সীমা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শর্তাবলির ১৬.১১.২ ধারা অনুযায়ী, প্রতি কম ওভারের জন্য দলগুলোর ১টি করে পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়। আইসিসির এই কড়া নিয়মের আওতায় দলের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে বাবর আজমও সরাসরি এই শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই টেস্ট সিরিজটি পাকিস্তানের জন্য মাঠ ও মাঠের বাইরে নানা বিতর্কে ঘেরা ছিল। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে হারের পর পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে; দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে বরখাস্ত করা হয় এবং সাতজন ক্রিকেটারকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। সেই দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী সূচিতে আগামী নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান। দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজটি রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।