উত্তরপ্রদেশের লখনউ বিমানবন্দরে অবতরণের সময় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিপত্তিতে পড়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে বহনকারী বিমান। খারাপ আবহাওয়া ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে প্রথমবার রানওয়েতে অবতরণ না করে বিমানটি প্রায় ২৫ মিনিট লখনউয়ের আকাশে চক্কর দেয়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে এলে দ্বিতীয় চেষ্টায় নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশের উদ্দেশে রওনা হন রাহুল গান্ধী। তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমানে ছিলেন। দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে লখনউয়ের চৌধরি চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটির অবতরণের কথা ছিল।
তবে অবতরণের সময় আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় পাইলট প্রথমবার রানওয়েতে নামার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ওই সময় লখনউয়ে হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো বাতাস ও নিম্নচাপজনিত আবহাওয়া বিরাজ করছিল। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাইলট বিমানটিকে নিরাপদ উচ্চতায় নিয়ে যান এবং আকাশে চক্কর দিতে থাকেন।
প্রায় ২৫ মিনিট পর আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করা হয়। এবার সফলভাবে রানওয়েতে অবতরণ করে বিমানটি। বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে রাহুল গান্ধীসহ বিমানের সব যাত্রী নিরাপদে বিমানবন্দরে নামেন।
বিমান পরিবহণ বিভাগের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রথমবারের চেষ্টায় বিমানটি অবতরণ করতে পারেনি। হালকা বৃষ্টি, নিম্নচাপ এবং বাতাসের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আবহাওয়াজনিত কারণে বিমানকে আকাশে ঘুরপাক খাওয়ানো স্বাভাবিক বিষয়। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সব যাত্রী নিরাপদে নেমেছেন।’
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে অবতরণের সময় পাইলটের কাছে রানওয়েতে নামাকে নিরাপদ মনে না হলে বিমানকে আবার ওপরে তুলে নেওয়া হয়। পরে আবহাওয়া ও অন্যান্য পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পুনরায় অবতরণের চেষ্টা করা হয়। বাতাসের গতি, আবহাওয়া, রানওয়ের অবস্থা কিংবা বিমান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাও এমন সিদ্ধান্তের কারণ হতে পারে।
এদিকে রাহুল গান্ধীকে স্বাগত জানাতে লখনউ বিমানবন্দরের বাইরে কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভিড় ছিল। উত্তরপ্রদেশ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাইসহ দলের অন্য নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে করে রায়বরেলীর উদ্দেশে রওনা দেন রাহুল। রায়বরেলী তার নির্বাচনী এলাকা। সেখানে তার দুই দিনের সফরের কর্মসূচি রয়েছে।
সফরে কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন রাহুল। স্থানীয় স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এ ছাড়া জেলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও নজরদারি কমিটির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।