ভোক্তাদের সঙ্গে ভয়ঙ্কর প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বেকারি পণ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল দুর্গন্ধযুক্ত পচা ডিম। শুধু তাই নয়, পণ্য তৈরির তারিখ গোপন করে প্যাকেটের গায়ে লাগানো হচ্ছিল ভবিষ্যতের বা অগ্রিম তারিখের লেবেল। এমন সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজবাড়ীর একটি বেকারিতে অভিযান পরিচালনা করে হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলার এই অপরাধে বেকারির মালিক মো. আয়ুব আলীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের গোয়ালন্দ মোড় সংলগ্ন ধুলদী জয়পুর এলাকায় এই সাড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান শেষে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ পচা ডিম ও অগ্রিম তারিখ দেওয়া লেবেল মাটিতে পুঁতে ফেলে বিনষ্ট করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতটি পরিচালনা করেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পায়রা চৌধুরী।
জানা গেছে, অভিযুক্ত মো. আয়ুব আলী দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ‘মায়ের দোয়া’ নামে একটি বেকারি পরিচালনা করে আসছিলেন। তার কারখানায় উৎপাদিত নানা পণ্যে পচা ও ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী নষ্ট ডিম মেশানো হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বিকেল চারটার দিকে সদর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর যৌথভাবে সেখানে অভিযানে নামে।
অভিযানের নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পায়রা চৌধুরী জানান, বেকারিতে প্রবেশ করে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির চিত্র দেখা যায়। এ সময় খাদ্যপণ্যে মেশানোর জন্য প্রস্তুত রাখা পচা, দুর্গন্ধযুক্ত ও খাবারের অযোগ্য ডিম এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর স্যাকারিন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় ছিল, খাদ্যপণ্যে অগ্রিম তারিখ ব্যবহারের জালিয়াতি, যা কর্মকর্তারা হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
অভিযান শেষে সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পায়রা চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা দেখতে পাই, বিস্কুট, পাউরুটিসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য গতকাল মঙ্গলবার তৈরি করা হয়েছে। অথচ তিনি (মালিক) অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে সেসব পণ্যের প্যাকেটে অগ্রিম তারিখ হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ১২ মার্চের লেবেল তৈরি করে লাগাচ্ছিলেন।”
তিনি আরও জানান, জনস্বার্থবিরোধী এসব অপরাধ আমলে নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯–এর ৫২ ধারার ক্ষমতাবলে বেকারির মালিক আয়ুব আলীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযানকালে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ পচা ডিম এবং ব্যবহৃত মেয়াদের লেবেল ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান, দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সূর্য্য কুমার প্রামাণিক এবং জেলা আনসার বাহিনীর একটি চৌকস দল।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।