২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের হারের ক্ষত এখনো দগদগে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হৃদয়ে যে বিষাদ দানা বেঁধেছে, তা থেকে মুক্তি পাননি খোদ অধিনায়ক লিওনেল মেসিও। মাঠের লড়াই শেষে মেসি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, এই পরাজয়ের গ্লানি মুছে পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে অনেকটা সময়ের প্রয়োজন। তবে আলবিসেলেস্তে শিবিরের এই অন্ধকার সময়ে আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠেছেন দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ‘প্লে-মেকার’ ও বর্তমানে বোকা জুনিয়র্সের প্রেসিডেন্ট হুয়ান রোমান রিকেলমে। তিনি মেসিকে ভাসিয়েছেন এক অনবদ্য প্রশংসার জোয়ারে এবং স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এক ঐতিহাসিক কৃতজ্ঞতার কথা।
আর্জেন্টাইন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’ (Olé)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রিকেলমে জানিয়েছেন, গত দুই দশক ধরে মেসি ফুটবল বিশ্বকে যা উপহার দিয়েছেন, তাতে নতুন করে বিস্মিত হওয়ার মতো আর কিছুই বাকি নেই। রিকেলমের মতে, মেসির খেলা দেখা কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি একটি শিল্প। তিনি বলেন, ‘মেসির ফুটবল দর্শন অন্য সবার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা যখন গ্যালারিতে বসে বা টেলিভিশনের পর্দায় ‘স্মার্টফোন’ হাতে নিয়ে নার্ভাস হয়ে পড়ি, মেসি তখন মাঠের ভেতর ধীরলয়ে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর শান্ত মস্তিষ্কের সেই গাণিতিক হিসাবগুলো এমন সব জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি করে, যা হয়তো আর কখনোই দ্বিতীয়বার দেখা সম্ভব হবে না।’
রিকেলমে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছেন সময়ের সাথে মেসির বিবর্তিত রূপ দেখে। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, ছোটবেলায় মেসি যখন বল নিয়ে দৌড়াতেন, মনে হতো তিনি বাতাসের চেয়েও দ্রুতগতির। বলটি যেন তাঁর পায়ে আঠার মতো লেগে থাকত। কিন্তু বয়সের সাথে সাথে তিনি নিজের খেলার ‘প্যাকেজ’ বদলে নিয়েছেন। এখন তিনি অবিশ্বাস্য সব পাস দেন, নিখুঁত ফ্রি-কিক নেন এবং দলের জন্য এক অনন্য সেনাপতিতে পরিণত হয়েছেন। রিকেলমে আরও একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় সামনে এনেছেন; তিনি বলেন, মেসি চাইলেই কিশোর বয়সে স্পেনের নাগরিকত্ব নিয়ে তাঁদের হয়ে খেলতে পারতেন। কিন্তু জন্মভূমি আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর যে অকৃত্রিম টান, তার জন্য পুরো দেশ তাঁর কাছে চিরঋণী। রিকেলমের ভাষায়, ‘মেসি স্পেনের বদলে আর্জেন্টিনাকে বেছে নিয়েছিলেন বলেই আমরা আজ এই গৌরবের অংশীদার। তাঁকে ধন্যবাদ জানানো আমাদের জাতীয় কর্তব্য।’
ফাইনালের ফলাফল নিয়ে ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে ৪৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ট্যাকটিকসের চেয়ে শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। রিকেলমে মনে করেন, আর্জেন্টিনা ফাইনালে নেমেছিল এক পাহাড়সম ক্লান্তি নিয়ে। স্পেনের তুলনায় স্কালোনির শিষ্যরা বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছিলেন অনেক কম। এর পাশাপাশি দলের প্রধান দুই ‘সেন্টারব্যাক’ চোটগ্রস্ত থাকায় রক্ষণভাগ কিছুটা দুর্বল ছিল। তবুও নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার জন্য তিনি পুরো দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে বিজয়ীদের কৃতিত্ব দিতেও কার্পণ্য করেননি তিনি। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ ফুটবল খেলেছে এবং তারা মাঠের শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে শতভাগ যোগ্য দল হিসেবেই বিশ্বজয়ের ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।