লিওনেল মেসির ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্লাবটির শোকেসে একের পর এক ট্রফি যোগ হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ক্যাম্পেওনেস কাপ। মেসির মাইলফলক ছোঁয়ার বিশেষ রাতেই মেক্সিকোর লিগা এমএক্স-জয়ী ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে আমেরিকার মেজর লিগ সকারজয়ী (এমএলএস) ইন্টার মিয়ামি।
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দুই লিগজয়ীর লড়াইটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ইন্টার মিয়ামির ঘরের মাঠ নু স্টেডিয়ামে। ম্যাচে পজেশনের দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। তবে আক্রমণভাগে মিয়ামিকে বেশ কয়েকবার চাপে ফেলেছিল ক্রুজ আজুল। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত নিতে পারেনি মেক্সিকান ক্লাবটি।
মিয়ামির হয়ে গোল দুটি করেছেন লিওনেল মেসি ও ক্যাসেমিরো। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে লুইস সুয়ারেজের ক্রস থেকে হেডে বল জালে পাঠান মেসি। ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১৫ ম্যাচে এটি ছিল আর্জেন্টাইন তারকার ১০০তম গোল।
মাইলফলকটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে প্রতিপক্ষের কারণে। ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর মেসির প্রথম গোলটিও এসেছিল ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ক্লাবটির অভিষেক ম্যাচে যোগ করা সময়ে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে মেক্সিকান দলটিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন তিনি। এবার সেই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই নিজের ১০০তম গোলের মাইলফলক ছুঁলেন মেসি এবং একই সঙ্গে দলকে এনে দিলেন গুরুত্বপূর্ণ লিড।
ম্যাচের শেষ দিকে মিয়ামির ব্যবধান আরও বাড়ান ক্যাসেমিরো। ৮১তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে হেডে গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। তার জন্যও গোলটি ছিল ব্যক্তিগতভাবে উল্লেখযোগ্য। শেষ পাঁচ ম্যাচে এটি ক্যাসেমিরোর চতুর্থ গোল। তার চারটি গোলই এসেছে হেড থেকে।
এর আগে সিএফ মন্ট্রিয়েল, আটলান্টা ইউনাইটেড ও শিকাগোর বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে গোল করেছিলেন ক্যাসেমিরো। তবে শনিবার ন্যাশভিলের বিপক্ষে ম্যাচে গোলের দেখা পাননি তিনি। ক্যাম্পেওনেস কাপে অবশ্য আবারও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হয়ে জ্বলে উঠলেন এই মিডফিল্ডার।
মেসি ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার তিন বছর পর ক্লাবটির ট্রফি সংখ্যা দাঁড়াল চারটিতে। ২০২৩ সালে লিগস কাপ দিয়ে শিরোপা জয়ের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স শিল্ড এবং ২০২৫ সালে এমএলএস কাপ জেতে মিয়ামি। এবার ২০২৬ সালে সেই তালিকায় যুক্ত হলো ক্যাম্পেওনেস কাপ।
একই ম্যাচে মেসির ব্যক্তিগত মাইলফলক এবং দলের নতুন শিরোপা দুই অর্জনই তাই ইন্টার মিয়ামির জন্য রাতটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলল।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।