বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংজ্ঞাই বদলে দিতে যাচ্ছে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান মেটা। এতদিন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এবার সেখানে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের এই তিন জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের জন্য বিশেষ ‘প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন’ চালুর পরিকল্পনা করছে। এই নতুন পরিষেবাটি বর্তমানের ‘মেটা ভেরিফায়েড’ (ব্লু-টিক) সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এখানে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ও বিশেষ সুবিধা যুক্ত করার কথা ভাবছে মেটা।
মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তিতে বিশাল অংকের বিনিয়োগ এবং উন্নততর সব ‘ফিচার’ বা ফিচারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতেই এই বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্রিমিয়াম প্ল্যানে ব্যবহারকারীরা অত্যাধুনিক এআই-নির্ভর টুল ব্যবহার করতে পারবেন। মেটার অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, তাদের উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’ এই সাবস্ক্রিপশনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে পারে। এর মাধ্যমে অত্যন্ত স্মার্টলি বার্তার উত্তর দেওয়া (স্মার্ট রিপ্লাই), সৃজনশীল ‘কন্টেন্ট’ তৈরিতে সহায়তা পাওয়া এবং বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় কাজ আরও সহজভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের জন্য এই প্রিমিয়াম মডেলে থাকছে চমকপ্রদ কিছু সুবিধা। এর মধ্যে একটি হলো ‘ভাইবস’ নামক এআই ফিচার, যা দিয়ে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই উচ্চমানের ও সৃজনশীল স্বল্পদৈর্ঘ্যের ‘ভিডিও’ তৈরি করতে পারবেন। এছাড়াও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে এই পেইড সার্ভিসের মাধ্যমে। যেমন—কারা আপনাকে ফলো করলেও আপনি তাদের পাল্টা ফলো করছেন না তা সহজেই জানা যাবে এবং সবচাইতে চমকপ্রদ হলো, অন্যদের অজান্তেই তাদের ‘স্টোরি’ দেখার বিশেষ সুযোগ মিলতে পারে। অন্যদিকে, হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও উন্নত চ্যাট ফিচার, বাড়তি ‘কাস্টমাইজেশন’ এবং এআইচালিত নানা উন্নত সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। মেটা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন গ্রহণ করা হবে সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। অর্থাৎ, যারা বাড়তি টাকা খরচ করতে চান না, তারা আগের মতোই বর্তমানের ‘ফ্রি’ সংস্করণে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে পারবেন। মূলত পেশাদার ব্যবহারকারী এবং যারা অতিরিক্ত আধুনিক এআই ফিচার ব্যবহারে আগ্রহী, তাদের লক্ষ্য করেই এই নতুন ব্যবসায়িক মডেল সাজানো হয়েছে।
অবশ্য এই নতুন উদ্যোগের সাথে সাথে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ‘প্রাইভেসি’ বা গোপনীয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের আনাগোনা শুরু হওয়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ‘ডেটা’ এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে কি না। এই আশঙ্কার জবাবে মেটা অভয় দিয়ে জানিয়েছে, তাদের ব্যবহারকারীদের ডেটা সুরক্ষা নীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিহাসে মেটার এই প্রিমিয়াম যাত্রা কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।