মাঝরাতে রুদ্ধশ্বাস বৈঠক: কোনো বিক্ষোভকারীকে বিপদে পড়তে দেবে না ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

দিল্লির রাজপথ যখন আবারও উত্তাল হওয়ার অপেক্ষায় ছিল, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মোড় নিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও সরকারের মধ্যকার অমীমাংসিত সম্পর্ক। গত কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে চলমান পুলিশি ধরপাকড় আর মামলার প্রতিবাদে সিজেপি নতুন করে আন্দোলনের যে হুমকি দিয়েছিল, তা থেকে আপাতত সরে এসেছে দলটি। সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক দীর্ঘ ও রুদ্ধশ্বাস বৈঠকের পর সিজেপি নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে, তাঁরা আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত আশ্বাস লাভ করেছেন।

দলের মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস সোমবার রাত ১টা নাগাদ তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক বিশেষ বার্তায় এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিজেপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে পুনরায় রাজপথে নামার আল্টিমেটাম দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় সরকারের নীতিনির্ধারণী বা ‘ক্যাবিনেট’ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা তাঁদের সাথে জরুরি আলোচনায় বসেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সেই নিবিড় বৈঠকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর (FIR) প্রত্যাহার, আটককৃতদের অবিলম্বে মুক্তি এবং আইনি হয়রানি থেকে চিরতরে রেহাই দেওয়ার বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ‘প্যাকেজ’ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সৌরভ দাসের দেওয়া তথ্যমতে, আলোচনা চলাকালে সরকারি প্রতিনিধিরা বিহার ও আসামের স্বরাষ্ট্র বিভাগের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বেই জারি করা দুটি সরকারি বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি তাঁদের দেখান। ওই দাপ্তরিক আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা সব ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় সরকার এবং অন্যান্য এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকেও আজ মঙ্গলবারের মধ্যেই অনুরূপ ‘গ্যারান্টি’ বিজ্ঞপ্তি জারি করার কঠোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ভিডিও বার্তায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সৌরভ দাস বলেন, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—কোনো একজন বিক্ষোভকারীকেও একা ছেড়ে দেওয়া হবে না। আমরা সবাই একসাথেই এই লড়াইয়ে আছি এবং থাকব।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সরকার যে ভাষায় সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা যেন যথাযথভাবে বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিফলিত হয়। মূলত আইনি মারপ্যাঁচে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন নষ্ট না হয়, সেটিই এখন সিজেপির প্রধান তদারকির বিষয়।

উল্লেখ্য, এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সিজেপি অভিযোগ তুলেছিল যে, সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে গোপনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই মধ্যরাতের বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। আপাতত সরকারের নমনীয় অবস্থান এবং আইনি সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে, যার ফলে বড় ধরণের কোনো সংঘাতের আশঙ্কা আপাতত এড়ানো সম্ভব হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।