ইসলামী বিশ্ব বর্তমানে নানা গুরুতর চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তাঁর মতে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ইসলামী বিশ্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়ার উদ্যোগ। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সামসুন প্রদেশে তরুণদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এরদোগান এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে গত মাসে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এরদোগান বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইসলামী বিশ্বকে একটি বার্তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত এ উদ্যোগ সফল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বর্তমান কাঠামো নিয়েও বক্তব্য দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যকে কেন্দ্র করে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি দীর্ঘদিনের নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এরদোগান বলেন, বিশ্ব কেবল ওই পাঁচ দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে এবং আরও ন্যায়ভিত্তিক একটি বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে তুরস্কের অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এরদোগান। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে চলমান পরিস্থিতিকে তিনি উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কী ঘটছে, তা তুরস্ক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে উপসাগরের আরও অনেক এলাকায় গুরুতর সংকট তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এরদোগানের মতে, ইসলামী বিশ্বের সামনে থাকা সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। এসব সংকট মোকাবিলায় তুরস্ক অতীতের মতো বর্তমানেও অঞ্চলের দেশগুলোর পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের তুরস্কের প্রতি প্রত্যাশা অনেক বেশি। ফলে আঞ্চলিক সংকটকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। চারপাশে যুদ্ধ ও সংঘাত চললেও তুরস্ক নিজেকে এসব ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এরদোগানের ভাষায়, যখন তাঁর অঞ্চল যুদ্ধ, সংঘাত ও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখনও তুরস্ক দেশকে এসব বিপদ থেকে দূরে রাখতে পেরেছে। একই সময়ে আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্ক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানান তিনি।
বক্তব্যে চলতি বছরের জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের কথাও তুলে ধরেন এরদোগান। তিনি জানান, তুরস্কের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান মেকানিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন (এমকেই) উৎপাদিত অস্ত্র বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
এরদোগান বলেন, তুরস্কের নিজস্ব পণ্য উপহার দেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। সফররত রাষ্ট্রনেতারা এসব উপহার পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া তুরস্কের পর্যটন নগরী আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন এরদোগান। তিনি জানান, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
পাশাপাশি তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোগানের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘জিরো ওয়েস্ট’ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এরদোগান জানান, জাতিসংঘ ব্যবস্থার মধ্যে এ উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি পেয়েছে।
সব মিলিয়ে এরদোগানের বক্তব্যে ইসলামী বিশ্বের সংকট, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে তিনি বৃহত্তর ইসলামী বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই তুলে ধরেছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।