বাঙালির রসনাবিলাসে বিরিয়ানি কেবল একটি খাবার নয়, বরং এটি এক গভীর আবেগ ও ঐতিহ্যের নাম। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের দস্তরখানে এক প্লেট গরম ধোঁয়া ওঠা বিরিয়ানি বা তেহারি ভোজনরসিকদের কাছে অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষিত। সারা বছর নামী-দামী রেস্টুরেন্টে এই পদের স্বাদ নিলেও, রমজান মাসে ইফতারে বিভিন্ন মসজিদে পরিবেশন করা বিরিয়ানি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের বাড়তি উন্মাদনা কাজ করে। প্রতি বছরই এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মজাদার পোস্ট ও ‘মিম’ ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। তবে এই বছর সেই জনপ্রিয়তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এক প্রতিভাবান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের প্রিন্স তৈরি করেছেন এক অভিনব অ্যাপ ও ওয়েবসাইট, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিরিয়ানি দিবে’। মূলত রমজান মাসে কোন মসজিদে ইফতারে বিরিয়ানি বা তেহারি পরিবেশন করা হচ্ছে, তার নিখুঁত তথ্য পৌঁছে দেওয়াই এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য। তাঁর এই সৃজনশীল উদ্ভাবনটি ইতিমধ্যেই ‘সোশ্যাল মিডিয়া’র বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই প্ল্যাটফর্মটির কার্যপদ্ধতি অত্যন্ত সহজ ও আধুনিক। এখানে ‘লাইভ লোকেশন’ বা সরাসরি মানচিত্র যুক্ত করার বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। এর ফলে যে কেউ চাইলে তাঁর আশেপাশের কোনো মসজিদে বিরিয়ানি দেওয়ার তথ্য এখানে যোগ করতে পারেন। ফলে অন্যান্য ব্যবহারকারীরাও তাঁদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনায়াসেই দেখে নিতে পারবেন আজ কোন এলাকায় বিরিয়ানি খাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। এটি মূলত একটি সমন্বিত ও কমিউনিটি-নির্ভর সেবা হিসেবে কাজ করছে, যেখানে ব্যবহারকারীরাই একে অপরকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন।
এই অভিনব আইডিয়া সম্পর্কে আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের প্রিন্স জানান, এটি মূলত একটি ‘ফান প্রজেক্ট’ বা শখের বশে করা কাজ হিসেবে তিনি শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, “এটি আসলে একটা ফান প্রজেক্ট। এখানে লাইভ লোকেশন অ্যাড করা যায় ওয়েবসাইট ও অ্যাপে। যে কেউ চাইলে এখানে ভিজিট করে এই বিরিয়ানি খাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।”
তরুণ প্রজন্মের এমন সৃজনশীলতা প্রমাণ করে যে, যথাযথ সুযোগ ও প্ল্যাটফর্ম পেলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও চিরাচরিত ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রযুক্তির চমৎকার মেলবন্ধন ঘটাতে সক্ষম। ‘বিরিয়ানি দিবে’ অ্যাপটি কেবল একটি তথ্য সরবরাহের মাধ্যম নয়, বরং এটি উৎসবের আমেজে প্রযুক্তির এক মজাদার ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।