ভারতের উত্তাল রাজপথ, এরই মাঝে মোদি মন্ত্রিসভায় বড় ধাক্কা: কেন হঠাৎ পদত্যাগ করলেন এই প্রভাবশালী মন্ত্রী?

ভারতে চলমান তীব্র শিক্ষার্থী আন্দোলনের উত্তাপ যখন রাজধানী দিল্লি ছাড়িয়ে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা থেকে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় রেল ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রী রাভনীত সিং বিট্টু। উত্তাল এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর এই প্রস্থান মোদি সরকারের জন্য এক বড় ধরণের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও তাঁর এই পদত্যাগের পেছনে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের এক সুদূরপ্রসারী ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ বা পরিকল্পনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।

গত জুন মাসেই ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে রাভনীত সিং বিট্টুর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত সীমান্তবর্তী রাজ্য পাঞ্জাবে বর্তমানে বিজেপি বেশ কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। সেই মাটিতে পদ্ম শিবিরের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে এবং দলের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিট্টুকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে মাঠে নামানোর ছক কষছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ফলে মন্ত্রিসভা থেকে তাঁর এই বিদায়কে মূলত এক কৌশলগত ‘মুভ’ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিজের ‘স্মার্টফোন’ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিট্টু। তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, “ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশমাতৃকার সেবা করার যে সুযোগ আমাকে দেওয়া হয়েছিল, তার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিরঋণী। বিশেষ করে আমার প্রাণের রাজ্য পাঞ্জাবের মানুষের জন্য কাজ করতে পারা ছিল আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্ষমতার চেয়ারে না থাকলেও নরেন্দ্র মোদির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদ ও জনসেবার আদর্শে তিনি আমৃত্যু অবিচল থাকবেন।

রাভনীত সিং বিট্টুর রাজনৈতিক পরিচয়টিও বেশ চমকপ্রদ। তিনি পাঞ্জাবের সাবেক প্রভাবশালী মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এক নাটকীয় মোড়ে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সংস্রব ত্যাগ করে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি, তবুও তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর ভরসা করে রাজস্থান থেকে তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল। এখন পাঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে বিজেপি এই ‘হেভিওয়েট’ নেতাকেই তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। একদিকে দিল্লির রাজপথে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং অন্যদিকে ঘরোয়া রাজনীতির এই রদবদল—সব মিলিয়ে মোদি সরকার এখন এক চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।