ভারতজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টির

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বৃহস্পতিবার ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়ার পর শুক্রবার দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

দীপকের ঘোষণা অনুযায়ী, ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে আন্দোলন শুরু হবে। পরে তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন বা গান্ধী জয়ন্তী হওয়ায় দিনটিকেই কর্মসূচি শুরুর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার সিজেপি জ্ঞানেশ কুমারকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের সময়সীমা দেয়। দলটি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলেছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা দাবি করেছে, এসব পরিবর্তন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)কে সুবিধা দিতে পারে। তবে এ অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়।

ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা বেড়েছে। বুধবার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের কাছে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন বা উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াও ছিল।

এর পরদিন সিজেপি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে এবং দেশব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়। দলটি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবিও জানিয়েছে।

এদিকে কংগ্রেসসহ ভারতের কয়েকটি বিরোধী দলও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। শুক্রবার বিভিন্ন এলাকায় সিইসির পদত্যাগের দাবিতে মিছিল ও বিক্ষোভ হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

কমিশনের বক্তব্য

নির্বাচন কমিশন অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের মধ্যে ভিন্নমত বা পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক। একই সঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, তাদের নেওয়া সব পদক্ষেপ আইনসম্মত।

ক্ষমতাসীন বিজেপিও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির বক্তব্য, বিরোধীরা বারবার নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে।

ফলে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন, বিরোধী দল এবং ককরোচ জনতা পার্টির মধ্যে বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। সিজেপির ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হয় এবং ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার কোনো সিদ্ধান্ত নেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।