ইন্টারনেটের অবাধ দুনিয়ায় শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের অবসান ঘটাতে বড় ধরনের এক বৈশ্বিক উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এবার থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী বা অপ্রাপ্তবয়স্করা চাইলেই স্মার্টফোনে যেকোনো ‘অশ্লীল’ বা আপত্তিকর কন্টেন্ট দেখতে পারবে না। অ্যাপ স্টোর থেকে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক ‘বয়স যাচাই’ ব্যবস্থা বা এজ ভেরিফিকেশন সিস্টেম চালু করেছে এই মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি। মূলত বিভিন্ন দেশের পরিবর্তিত আইন ও আঞ্চলিক নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ডেভেলপারদের সহায়তা করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
অ্যাপলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল এবং সিঙ্গাপুরে ১৮+ রেটিং পাওয়া যেকোনো অ্যাপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্রাজিলের ক্ষেত্রে নীতিটি আরও কঠোর; সেখানে যেসব অ্যাপে ‘লুট বক্স’-এর মতো গ্যাম্বলিং বা বাজি ধরার মতো বিতর্কিত ফিচার রয়েছে, সেগুলোকে সরাসরি প্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। অ্যাপল নিশ্চিত করেছে যে, তাদের নিজস্ব ‘সিস্টেম’ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর বয়স শনাক্ত করতে পারবে। তবে প্রয়োজনে অ্যাপ ডেভেলপারদেরও আলাদাভাবে এই তথ্য যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ‘ডিক্লেয়ার্ড এজ রেঞ্জ এপিআই’ (Declared Age Range API) নামে একটি নতুন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা আইওএস (iOS), আইপ্যাডওএস (iPadOS) এবং ম্যাকওএস (macOS) প্ল্যাটফর্মে কার্যকর থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও এই নিয়ম কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট ‘ডেডলাইন’ বা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৬ মে ২০২৬ থেকে উটাহ এবং ১ জুলাই ২০২৬ থেকে লুইজিয়ানায় ব্যবহারকারীদের বয়স-সংক্রান্ত তথ্য ডেভেলপারদের সাথে শেয়ার করা হবে। উটাহ অঙ্গরাজ্যের নতুন আইন অনুযায়ী, অ্যাপ স্টোরে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে অবশ্যই ব্যবহারকারীর বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে। যদি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাপল আইডি ব্যবহার করতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই পিতামাতা বা অভিভাবকের অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত হতে হবে এবং যেকোনো অ্যাপ ডাউনলোডে অভিভাবকের সরাসরি অনুমতি নিতে হবে। একই ধরণের আইন লুইজিয়ানা ও টেক্সাসেও অনুমোদিত হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়াতেও এমন কঠোর বিধিমালা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের পর্নোগ্রাফি, সহিংসতা এবং জুয়ার মতো ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। তবে এর বিপরীতে কিছু সমালোচক ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা ভবিষ্যতে অনলাইন স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ‘ডেটা’ চুরির নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবুও ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধের যুগে অ্যাপলের এই কঠোর অবস্থানকে বিশ্বব্যাপী অভিভাবক ও নীতি-নির্ধারকরা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।