দেশে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থা জনপ্রিয় করতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিউআর কোড ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে ১০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর হবে, যার মাধ্যমে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে লেনদেনের ওপর নির্দিষ্ট হারে প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি) থেকে সোমবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৪৫১তম সভায় এই প্রণোদনা তহবিলের অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যক্তিপর্যায়ে নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতাদের দোকানে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। কিউআর কোড স্থাপনকারী একুয়ারিং প্রতিষ্ঠান লেনদেনের ওপর শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং গ্রাহকের টাকা পরিশোধকারী ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবে।
দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা গেছে যে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লাভের মার্জিন কম হওয়ায় লেনদেনের ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ মাশুল তাদের ওপর বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই মাশুলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ‘ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি’ (আইআরএফ) হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করতে হতো। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনে আইআরএফ শূন্য করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের মাশুলের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ২৪ লাখ ব্যবসায়ী বাংলা কিউআর নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত রয়েছেন, তবে লেনদেনের খরচ বেশি হওয়ায় তাদের মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনে অনাগ্রহ ছিল।
প্রণোদনার অপব্যবহার রোধে কঠোর শর্তও জুড়ে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, বেশি প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো বড় লেনদেনকে ভেঙে একাধিক ছোট লেনদেনে রূপান্তর করা যাবে না। এছাড়া ব্যর্থ, ফেরত বা বিরোধপূর্ণ কোনো লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা প্রদান করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, নগদ লেনদেনের অস্বস্তি দূর করে একটি টেকসই ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। এর ফলে ক্ষুদ্র বিক্রেতারা নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে উৎসাহিত হবেন, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ডিজিটাল বিপ্লবকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।