বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগকে নিয়ে ডা. জাহেদের মন্তব্য

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ। দলটিকে ‘মাফিয়া গ্যাং’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পর আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের মাটিতে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, তা নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে ডা. জাহেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না, এটি একটি মাফিয়া গ্যাং। আওয়ামী লীগ কেন রাজনীতি করতে পারবে না, কেউ কেউ এ আলাপ করার চেষ্টা করে। বাঁধনের সঙ্গে যা হয়েছে, তাতে আবার ভাবতে হবে, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে কোনোভাবে বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে কি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যা যা ঘটিয়েছে, তার পরে ন্যূনতম দুঃখবোধ থাকলে কিংবা রাজনীতিতে ফিরে আসার ইচ্ছে থাকলে এ সহিংসতাগুলো করা হতো না।’

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওই দেশে আইননানুগ ব্যবস্থা যা নেওয়ার, সরকার তার প্রসেস শুরু হয়েছে। এ ঘটনাকে ছেড়ে দেব না, কোনোভাবেই ছেড়ে দেয়া যাবে না।’

লোডশেডিং নিয়ে যা বললেন

লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জুন-জুলাইয়ে গড় লোডশেডিং ২০২৩ সালের তুলনায় কম ছিল। তবে ঢাকায় কিছুটা লোডশেডিং হওয়াকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন তিনি।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘২০২৬ সালের জুন-জুলাইয়ে এভারেজ লোডশেডিং ২০২৩-এর তুলনায় কম ছিল। ঢাকায়ও কিছুটা লোডশেডিং হওয়া উচিত। ঢাকা বড় শহর, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি; সে কারণে একেবারেই লোডশেডিং হবে না, এমনটি ঠিক নয়। ঢাকায় কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে ইদানিং।’

সার মজুত নিয়ে আশ্বস্ত করলেন

দেশে সার সংকটের বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তার দাবি, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং মজুতের দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই। তবে বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘এই মুহূর্তে সার আছে ১২ দশমিক ২৯৪ লাখ মেট্রিক টন। গত বছর ছিল সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন। মজুতজনিত কোনো সমস্যা নেই, বিতরণে কিছু সমস্যা হয়েছে।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, মানুষের জীবন নিরাপদ রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধারের কাজও মন্ত্রণালয় যথাযথভাবে করছে বলে দাবি করেন তিনি।

গ্যাংস সংকট ও জ্বালানি সরবরাহের প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ চাইলেও প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি পরিমাণ এলএনজি আমদানি করতে পারে না। এর পেছনে এফএসআরও-এর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চাইলেও অনেক বেশি এলএনজি আমদানি করতে পারে না। কারণ, এফএসআরও-এর সক্ষমতা নেই। চীনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে এফএসআরও-এর অর্ডার দেওয়া হয়েছে, যেটি দেড় বছরের মধ্যে আসবে। খরচের চেয়ে আপৎকালীন দিকটি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও মন্তব্য করেন ডা. জাহেদ। তার মতে, সরকার বেশি দিন দায়িত্বে না থাকলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে কিছু বিষয়ে আগেই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বেশিদিন না থাকলেও ভবিষ্যতের চিন্তা করা উচিত ছিল তাদের। স্থলভাগের গ্যাস, এফএসআরইউ নিয়ে পদক্ষেপ নেয়নি।’

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।