বরিশালের আদালত প্রাঙ্গণে বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং এজলাসে ভাঙচুরের নজিরবিহীন ঘটনায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে সংঘটিত সেই বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বরিশালের যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল ইউসুফ এবং অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মিল্টন হোসেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর সুপারিশ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ জন সদস্যের পেশাগত সনদ (লাইসেন্স) বাতিলের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছেও আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার, যখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন দেওয়াকে কেন্দ্র করে আদালত কক্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত আইনজীবীরা ওই সময় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে হট্টগোল শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ভাঙচুর চালান। এই ঘটনার পরদিন বুধবার যৌথবাহিনীর অভিযানে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমানকে (লিংকন) গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় উচ্চ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল ৯ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিচারকের সঙ্গে অশুভ আচরণ এবং আদালত কক্ষ ভাঙচুরের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। আগামী ১০ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত আইনজীবীদের এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।
আদালত অবমাননার রুল জারি হওয়া ৯ জন আইনজীবী হলেন— সাদিকুর রহমান লিংকন, মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, নাজিমুদ্দিন পান্না, মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, সাঈদ এবং হাফিজ উদ্দিন বাবলু।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা ওইদিন শুধু এজলাস ভাঙচুরই করেননি, বরং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও আসবাবপত্র বিনষ্ট করেছেন। এজলাসে উপস্থিত বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আইনজীবীদের এমন মারমুখী আচরণে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে বিচারক এজলাস ছেড়ে নেমে যেতে বাধ্য হন। সরকারি কর্মচারীদের ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগও আনা হয়েছে এই মামলায়। গ্রেফতারকৃত সাদিকুর রহমান লিংকনকে বর্তমানে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।