জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের জন্য এক দারুণ চমক নিয়ে এসেছে এর মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস। এখন থেকে ফেসবুক প্রোফাইলের ছবি আর কেবল একটি স্থির প্রতিচ্ছবি হয়ে আটকে থাকবে না। মেটার নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর ফিচারের কল্যাণে আপনার প্রোফাইল ছবি এখন থেকে নড়াচড়া করবে, হাসবে কিংবা আক্ষরিক অর্থেই হাত নাড়বে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাঁদের সাধারণ স্থির ছবিকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি প্রাণবন্ত অ্যানিমেশন বা জিআইএফ (GIF) ধাঁচের চলমান ছবিতে রূপান্তর করতে পারবেন।
প্রযুক্তিবিশ্বে মেটার এই নতুন পদক্ষেপটি ব্যবহারকারীদের সৃজনশীলতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। মেটা জানিয়েছে, এই ফিচারের আওতায় ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কিছু প্রস্তুতকৃত অ্যানিমেশন অপশন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ওয়েভ’ (হাত নাড়ানো), ‘কনফেটি’, ‘পার্টি হ্যাট’ এবং ‘হার্ট’ বা ভালোবাসার চিহ্নের মতো মজাদার সব ইফেক্ট। এখানেই শেষ নয়, মেটার পরিকল্পনা রয়েছে ভবিষ্যতে বিভিন্ন বৈশ্বিক উৎসব, ঋতু পরিবর্তন কিংবা বিশেষ দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে আরও নতুন নতুন ও বৈচিত্র্যময় অ্যানিমেশন এই তালিকায় যুক্ত করার।
তবে এই এআই ফিচারের মাধ্যমে সেরা ফলাফল পেতে ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু বিশেষ পরামর্শও দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির মতে, অ্যানিমেশনটি সুন্দরভাবে ফুটে ওঠার জন্য এমন ছবি নির্বাচন করা উচিত যেখানে ব্যক্তি সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকবেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল স্পষ্ট দেখা যাবে। এছাড়া হাতে কোনো বাড়তি বস্তু বা অন্য কোনো অবজেক্ট না থাকাই ভালো। ব্যবহারকারীরা চাইলে সরাসরি স্মার্টফোনের ‘ক্যামেরা রোল’ থেকে নতুন ছবি তুলে কিংবা আগে আপলোড করা পুরোনো ছবি ব্যবহার করেও এই অ্যানিমেশন তৈরি করতে পারবেন। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পর এটি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে সেট করার পাশাপাশি সরাসরি ফেসবুকের ‘নিউজ ফিড’-এও শেয়ার করা যাবে।
প্রোফাইল পিকচারের পাশাপাশি মেটা তাদের ‘স্টোরিজ’ ফিচারের জন্য ‘রিস্টাইল’ নামক আরও একটি উন্নত এআই টুল নিয়ে এসেছে। এই ফিচারের মাধ্যমে স্টোরিতে আপলোড করা যেকোনো ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেওয়া সম্ভব। ব্যবহারকারীরা চাইলে মেটার দেওয়া প্রি-সেট অপশন ব্যবহার করতে পারবেন অথবা নির্দিষ্ট টেক্সট বা বার্তার মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়ে নিজের পছন্দমতো ছবির ধরন বদলে নিতে পারবেন। এমনকি সাধারণ ছবিকে ডিজিটাল ইলাস্ট্রেশনে রূপ দেওয়ার সুবিধাও এখানে রাখা হয়েছে।
মেটার এই নতুন উদ্ভাবন নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদল ব্যবহারকারী একে অত্যন্ত মজাদার ও আধুনিক সংযোজন হিসেবে দেখছেন, অন্যদল একে কিছুটা অপ্রয়োজনীয় বলেও মন্তব্য করছেন। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত কনটেন্টের ব্যবহার বাড়িয়ে ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মে আরও বেশি সক্রিয় বা এনগেজ রাখতেই মেটা নিয়মিত এ ধরনের এআই-চালিত ফিচার নিয়ে আসছে। ডিজিটাল প্রচারণার এই যুগে ফেসবুকের এই পরিবর্তনটি নিঃসন্দেহে ব্যবহারকারীদের প্রোফাইলকে আরও আকর্ষণীয় ও ইন্টারেক্টিভ করে তুলবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।