পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিতে তোড়জোড়: দ্রুত বোর্ড গঠনের আহ্বান আইবিসির

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের জোট ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ (আইবিসি)। বর্তমান বাজারমূল্য ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আইবিসির সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।


বর্তমানে আইবিসির আওতাধীন ১৬টি সক্রিয় শ্রমিক ফেডারেশন তাদের দাবির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। আইবিসির পক্ষ থেকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সর্বশেষ সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ মজুরিকাঠামো ঘোষণার পর, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই সেই তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে। অর্থাৎ, আইনত চলতি বছরের শেষ নাগাদ নতুন মজুরিকাঠামো ঘোষণা করা বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


তবে, আইবিসি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেছে যে, মজুরি বোর্ড গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম এখন পর্যন্ত চোখে পড়ছে না। মজুরি বোর্ড গঠন, সদস্য মনোনয়ন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় এবং গণশুনানির মতো দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন হয়। সময়মতো এই কার্যক্রম শুরু না করা হলে নির্ধারিত ডেডলাইনের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করা সম্ভব হবে না, যা শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


আইবিসির সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, “যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে হবে, যাতে জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা বর্ধিত হারে বেতন পেতে পারেন। জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয় সামাল দিতে এখন আর কালক্ষেপণের সুযোগ নেই।” এছাড়া তিনি আরও যোগ করেন, পোশাকশিল্পের টেকসই উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখতে হলে শ্রমিকদের জন্য একটি সময়োপযোগী ও মানবিক মজুরিকাঠামো অপরিহার্য। শ্রমিক সংগঠনের এই দাবির প্রেক্ষিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এখন কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ শ্রম-শান্তি।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।