পুরোনো ভিডিও বিতর্কে অবশেষে মুখ খুললেন লিসা: ভুল স্বীকার করে যা বললেন গায়িকা

বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড ব্ল্যাকপিংকের তারকা সদস্য লিসার এক দশকেরও বেশি পুরোনো একটি অপেশাদার ভিডিও নিয়ে গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। সেই ভিডিওতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে ব্যবহৃত একটি চরম অবমাননাকর ও বর্ণবাদী শব্দের উপস্থিতি নিয়ে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছিল এই থাই গায়িকাকে। এতদিন পর নীরবতা ভেঙে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। লিসা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কৈশোরের সেই সময়ে ওই নির্দিষ্ট শব্দের প্রকৃত অর্থ কিংবা এর পেছনে থাকা স্পর্শকাতর বর্ণবাদী ইতিহাস সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না।

সম্প্রতি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত লিসার বহুল আলোচিত নতুন তথ্যচিত্র ‘অলওয়েজ লালিসা’র মাধ্যমে বিষয়টি আবারও সামনে আসে। গত ১১ সেপ্টেম্বর চলচ্চিত্র উৎসবটিতে তথ্যচিত্রটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রখ্যাত মার্কিন বিনোদন সাময়িকী ‘ভ্যারাইটি’কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। নিজের অজ্ঞতার কথা স্বীকার করে লিসা বলেন, "আমাকে সত্যিই ক্ষমা চাইতে হবে। সত্যি বলতে, আমি থাইল্যান্ডে বড় হয়েছি। সেখানে এ বিষয়ে কোনো শিক্ষা দেওয়া হয়নি। তাই তখন আমি জানতাম না।"

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভিডিওগুলো মূলত এক দশকেরও বেশি পুরোনো, যখন লিসা ও ব্ল্যাকপিংকের অন্যান্য সদস্যরা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নিতান্তই কিশোরী ছিলেন। সে সময় নাচের মহড়ায় তাঁরা অন্য পশ্চিমা সংগীতশিল্পীদের জনপ্রিয় গান অনুশীলনের জন্য গাইছিলেন, যার মূল লিরিক্সে ওই বিতর্কিত বর্ণবাদী শব্দটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে লিসার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক—প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ ‘কোচেলা’ সংগীত উৎসবে একক পরিবেশনার চূড়ান্ত প্রস্তুতিকালে পুরোনো সেই ভিডিওগুলো হঠাৎ নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই তা বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

অতীতের সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে লিসা অত্যন্ত সংবেদনশীল ভাষায় বলেন, "এখন আমি বিষয়টি জেনেছি এবং এ সম্পর্কে শিক্ষা নিয়েছি। আমি আর কখনো এমন করব না। এটা ঠিক হয়নি। সত্যিই।" তথ্যচিত্রে আরও একটি চমকপ্রদ দিক উন্মোচিত হয়েছে; বিতর্কের তীব্র দাবানল যখন ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন লিসার ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান তাকে বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিল। সেই মানসিক টানাপোড়েনের স্মৃতিচারণ করে তারকা শিল্পী বলেন, "আমি খুব মন খারাপ করেছিলাম। কারণ, আমি শুধু আমার পরিবেশনায় মন দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু ঘটনা ঘটে যায়, যেগুলো আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। তবে আমি লড়াই করে এগিয়ে গেছি।"

লিসার একক ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন, ব্ল্যাকপিংক থেকে সাময়িক বিরতি এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানামুখী টানাপোড়েনের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘অলওয়েজ লালিসা’ তথ্যচিত্রটি আগামী ১২ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহ ও আইম্যাক্সে (IMAX) মুক্তি পেতে যাচ্ছে। পরবর্তীতে চলতি বছরই এটি জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ইউটিউব প্রিমিয়াম’-এ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বর্তমানে ব্ল্যাকপিংকের চার সদস্য—লিসা, জেনি, জিসু ও রোজে নিজ নিজ একক কাজ ও আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট নিয়ে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে একক ক্যারিয়ার গড়ে তুললেও ব্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভক্তদের সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করেছেন লিসা। দলগত ঐক্যের প্রতি গভীর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "আমার বয়স ৫০ হলেও আমি ব্ল্যাকপিংক করতে চাই।"

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।