চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গভীর রাতে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের সিঁড়ির নিচে লাশ হয়ে ফিরলেন ব্যবসায়ী রিপন প্রধান (২৮)। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়েছেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
নিহত রিপন প্রধান চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লবাইরকান্দি গ্রামের এনামত উল্লাহ প্রধানের মেজ ছেলে। পেশায় ব্যবসায়ী রিপন রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় সপরিবারে থাকতেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা এলাকার হান্নান ঢালীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। এই দম্পতির আড়াই বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই খাদিজার কথিত পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকত। সাম্প্রতিক সময়ে এই কলহ চরমে পৌঁছালে রিপন তার স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তালাক প্রদান করেন, যার জেরে খাদিজা তার বাবার বাড়িতে চলে যান।
শনিবার বেলা তিনটার দিকে রিপন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে কথা বলতে শ্বশুরবাড়িতে যান। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাত নয়টার দিকে হঠাৎ শ্বশুরবাড়ির এক ব্যক্তির ফোন কল পান রিপনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম। ফোনে জানানো হয়, রিপন অসুস্থ হয়ে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান, কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো ওয়ার্ডে রিপনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর হাসপাতালের সিঁড়ির নিচে তারা রিপনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনার আকস্মিকতায় ভেঙে পড়া বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, "আমার ভাইকে স্ত্রী খাদিজা ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা লাশ হাসপাতালের সিঁড়ির নিচে ফেলে রেখে গা-ঢাকা দিয়েছে। আমরা যখন হাসপাতালে পৌঁছাই, তখন সেখানে শ্বশুরবাড়ির কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।" স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত খাদিজা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন। তাদের স্মার্টফোনগুলোও বর্তমানে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অখিল সরকার জানান, যুবকের মৃত্যুটি অত্যন্ত রহস্যজনক। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এটি হত্যাকাণ্ড কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া