পদত্যাগপত্রে কী লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন? জানালেন শারীরিক অসামর্থ্যের কথা

দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। দীর্ঘদিনের নানা জল্পনা-কল্পনা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে অবশেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নিলেন। শুক্রবার বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রপতির চেয়ার থেকে সরে দাঁড়ালেন।


২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি বেশ সরব ছিল। বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের মতো উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও তিনি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছিলেন। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠনের মতো জটিল সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে নিজের পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন।


পদত্যাগপত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশ এক চরম সাংবিধানিক সংকটে পড়লে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর এই ভূমিকার কারণে বড় ধরনের কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।


তবে শারীরিক অসুস্থতাকে তাঁর পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছেন তিনি। এর আগেও তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। বর্তমানে ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ (Autonomic Neuropathy) নামক জটিল স্নায়ুবিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ায় তিনি মাঝেমধ্যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সুস্থতার জন্য দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।


দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে নিষ্ঠা ও সততা বজায় রাখার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি এই সাংবিধানিক অধ্যায়ের ইতি টানলেন। রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে এখন প্রশ্ন উঠছে রাষ্ট্রপতির পরবর্তী উত্তরসূরি কে হচ্ছেন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় থাকবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।