সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের ফলাফল নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে বিতর্কের মেঘ। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, ভোট কারচুপি এবং নজিরবিহীন সহিংসতার অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত ও ভোট পুনর্গণনার (Recount) জোরালো দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী মো. আবু তাহের তালুকদার।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পূর্বধলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগগুলো উত্থাপন করেন। ওই আসনে বিজয়ী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাছুম মোস্তফার বিরুদ্ধে নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করা এবং সহিংসতার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন তিনি। আবু তাহের তালুকদার তাঁর লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় ধানের শীষের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, মেঘশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জনৈক প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্থাৎ বিকেল ৩টার দিকে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে রহস্যজনকভাবে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্বল্প সময়ের জন্য পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হলেও তা ছিল দায়সারা। এছাড়াও আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই তাঁর এজেন্টকে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়। আপত্তি জানালে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে মনগড়া ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। অন্য একটি কেন্দ্রে ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত না করেই ব্যালট পেপার সরবরাহ করার মতো গুরুতর অভিযোগও তিনি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।
নারী ভোটারদের ভোটাধিকারে বাধা দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে তিনি জানান, মেঘশিমুল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কমিয়ে কৃত্রিম দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি করা হয়। ফলে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে অনেক নারী ভোটার ভোট দিতে না পেরে বিমুখ হয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করতে বাধ্য হন। নির্বাচনী সহিংসতার বর্ণনায় তিনি জানান, উপজেলার নারায়ণডহর বাজার, বিশকাকুনীর ধোবারুহি বাজার এবং ধলামূলগাঁও এলাকায় তাঁর নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটপাটের ঘটনাও ঘটে, যার প্রেক্ষিতে থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাছুম মোস্তফা পেয়েছেন ৮১ হাজার ২৫২ ভোট। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু তাহের তালুকদার পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৬৭৯ ভোট। উভয়ের মধ্যে ভোটের ব্যবধান মাত্র ২ হাজার ৬৫৭। আবু তাহের তালুকদার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সুপরিকল্পিত এই অনিয়ম না হলে ফলাফল তাঁর পক্ষেই আসত। তিনি ইতিধ্যেই জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রহিমসহ উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে এই দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।