নতুন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বদলি বন্ধ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজাজ।

সোমবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক বদলি কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়ম ও জটিলতা দেখা দেওয়ায় বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বদলির পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে চলতি বছরের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ারও যোগসূত্র রয়েছে। চলতি বছর ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১টি জেলায় ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২১ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীর ফল প্রকাশ করা হয়।

লিখিত পরীক্ষার পর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সব ধাপ শেষে ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘১৪ হাজারের বেশি যে নিয়োগ হবে, তার জন্য সব বদলি এখন স্থগিত। ১৪ হাজারের ফিক্সড হয়ে গেলে নতুন করে আবার চালু হবে। তখন এটা নেওয়া যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন শিক্ষকদের নিয়োগের পর আবার বদলি চালু হবে। তখন বর্তমান সিস্টেমটা, যে নীতিমালায় বদলিটা চলছিল সেটাতে হবে না অন্য কিছুতে হবে, সেটা তখনই বলা যাবে। যেহেতু তখন চেঞ্জ হতে পারে, তাহলে সেটা নিয়ে এখন আবার আলোচনার প্রয়োজন।’

অর্থাৎ নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বদলি কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে তখন বর্তমানে চালু থাকা নীতিমালার অধীনেই বদলি হবে, নাকি নতুন কোনো ব্যবস্থায় তা পরিচালিত হবে-সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষার উপবৃত্তিসহ অন্যান্য বিষয়েও সরকার নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উপবৃত্তিসহ সব বিষয়ের দিকে আমরা নজর রাখছি এবং সেই আঙ্গিকে আমরা কাজ করব। তবে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যে ফিডব্যাক পাই যে, এটা আরো নিড বেসড মানে ফাইনান্সিয়াল নিড বেস হলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। তখন আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, যেন এটা ফাইনান্সিয়াল নিড বেসিসের ওপরে হয় এবং সংখ্যাটা আরো বাড়ে।’

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষক বদলি কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সহায়তা ও সুবিধা কীভাবে আরও প্রয়োজনভিত্তিক করা যায়, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ করে ফাইনান্সিয়াল নিডের ভিত্তিতে উপবৃত্তির পরিধি ও সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে আগামী দিনে সরকারের প্রচেষ্টা থাকবে।

সব মিলিয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্থগিতই থাকছে। পরবর্তী সময়ে বদলি ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা নতুন নীতিমালা বা সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।