দিল্লির পর কি এবার কলকাতাও অচল? ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচি ঘিরে টানটান উত্তেজনা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলনের দাবানল এবার সীমানা ছাড়িয়ে আছড়ে পড়ছে তিলোত্তমা কলকাতায়। চিকিৎসা শিক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘নিট’ (NEET) প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো অভিযোগ এবং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরাজমান দুর্নীতির প্রতিবাদে এবার মাঠে নামছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আগামী শুক্রবার কলকাতার রাজপথে এক বিশাল প্রতিবাদী মিছিলের ডাক দিয়েছে এই বিতর্কিত অথচ প্রভাবশালী অনলাইনভিত্তিক যুব সংগঠনটি। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কলকাতার প্রশাসনিক মহলে এখন ব্যাপক তৎপরতা ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালনের জন্য ইতিমধ্যে কলকাতা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। দলের অন্যতম সদস্য দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায় গত ১৯ ও ২১ জুলাই কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (সদর) এবং যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ দমন) বরাবর ‘ইলেকট্রনিক’ ডাকযোগে বা ইমেইলের মাধ্যমে এই আবেদনপত্র পাঠিয়েছেন। যদিও প্রতিবেদনটি তৈরি করার সময় পর্যন্ত লালবাজার বা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ‘সবুজ সংকেত’ বা অনুমতির ঘোষণা আসেনি, তবুও আন্দোলনকারীরা তাঁদের প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখছেন না।

আবেদনপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে ঐতিহাসিক কলেজ স্কোয়ার প্রাঙ্গণ থেকে এই মিছিলটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মিছিলটি শহরের ব্যস্ততম রাস্তা প্রদক্ষিণ করে রানি রাসমণি এভিনিউ বা ‘রানি রাসমণি রোডে’ গিয়ে শেষ হবে। আয়োজকদের দাবি, এই বিশাল প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অন্তত দেড় হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন। যদিও অনুমতি নিয়ে পুলিশের তরফ থেকে এক ধরণের ধোঁয়াশা বজায় রাখা হয়েছে, তবুও পুলিশ কর্মকর্তারা আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লালবাজারের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, অনুমতি দেওয়া হোক বা না হোক, আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে ওইদিন রাজপথে ব্যাপক নিরাপত্তার ‘প্যাকেজ’ বা প্রটোকল বজায় রাখা হবে।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায় জানান, “পুলিশি অনুমতি এখনও মেলেনি ঠিকই, তবে আমরা আমাদের ন্যা্য্য দাবি থেকে পিছু হটব না। আমরা কলকাতার সমস্ত সচেতন ছাত্র ও যুবসমাজকে তাদের ‘স্মার্টফোন’ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।” তবে এই আন্দোলনের এক বিশেষ দিক হলো পরিচ্ছন্নতা; আয়োজকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে শিক্ষা দুর্নীতিসহ যে কোনো ধরণের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যাদের নাম জড়িয়েছে, তাদের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দিল্লির রাজপথ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ঢেউ ইতিমধ্যে মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতেও পৌঁছে গেছে। যদিও মুম্বাইয়ে কোনো পূর্ব অনুমতি ছাড়াই শিক্ষার্থীরা জমায়েত হয়েছিলেন, চেন্নাইয়েও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে যাত্রাকালে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং ধরপাকড়ের চিত্র বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই একই উত্তাপ এখন কলকাতায় ছড়িয়ে পড়লে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের জন্য নতুন কোনো রাজনৈতিক ‘ডেডলাইন’ বা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।