দলে গেল ১৯৭৯ সালের আইন: বড় ক্ষমতা পেল এপিবিএন, যুক্ত হলো কঠোর শর্ত

 প্রায় পৌনে পাঁচ দশকের পুরনো অধ্যাদেশ রহিত করে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর আইনটির সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত এই ইউনিটের তদন্ত ও অপারেশনাল ক্ষমতায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন এলো।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর আইনটি ‘২০২৬ সালের ১১০নং আইন’ হিসেবে গেজেট আকারে জারি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সামরিক শাসনামলের ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯’ পুরোপুরি বাতিল হয়ে নতুন যুগোপযোগী আইনের বাস্তবায়ন শুরু হলো। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যা পরবর্তীতে আইনপ্রণেতাদের কণ্ঠভোটে পাস হয়।

নতুন আইনে এপিবিএনকে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গঠন ও পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ কাঠামোর আওতায় ভিআইপি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ‘স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন’, দুর্গম অঞ্চলের শান্তিশৃঙ্খলায় ‘পার্বত্য ব্যাটালিয়ন’, দেশের এভিয়েশন খাতের সুরক্ষায় ‘বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন’ ছাড়াও সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত যেকোনো বিশেষায়িত ব্যাটালিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আইনটির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হলো—এপিবিএনকে এখন থেকে তাদের নিজস্ব অধিক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের প্রত্যক্ষ আইনি কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন অনুসরণ করে বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা যেকোনো অপরাধস্থলে সরাসরি প্রবেশ, তল্লাশি অভিযান পরিচালনা, আলামত ও মালামাল জব্দ এবং সন্দেহভাজন আসামিকে সরাসরি গ্রেপ্তার করতে পারবেন।

তবে ক্ষমতার পাশাপাশি বাহিনীর প্রশাসনিক গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষায় আইনে যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ নিয়ন্ত্রণমূলক বিধান। কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট পূর্বানুমতি ছাড়া এপিবিএনের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংবাদপত্র কিংবা ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে কোনো তথ্য, দাফতরিক নথি বা স্পর্শকাতর বিষয় প্রকাশ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে এ ধরনের তথ্য ফাঁসের কাজে যেকোনো সহযোগিতাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংসদে পাসের পর রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত সম্মতি ও গেজেট জারির মধ্য দিয়ে নতুন এই আইনটি এখন দেশজুড়ে কার্যকর একটি পূর্ণাঙ্গ বিধানে পরিণত হলো।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।