জেলা প্রশাসকের বুদ্ধিতেই কুপোকাত জালিয়াতি চক্র; যেভাবে উন্মোচিত হলো ৬৫ কোটির প্রতারণা

 খোদ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) চোখে ধুলো দিয়ে আকাশচুম্বী অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক দুঃসাহসিক ও অভিনব জালিয়াতির চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেজে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ৬৫ কোটি টাকার ভুয়া ঋণচুক্তি সই করানোর চেষ্টাকালে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (১ এপ্রিল), যখন মো. মোর্শেদ আলম ও মো. নজরুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তি গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা নিজেদের মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন এবং জেলা প্রশাসকের সামনে ৬৫ কোটি টাকার একটি ব্যক্তিগত ঋণের ‘সম্মতিপত্র’ বা ‘কনসেন্ট লেটার’ উপস্থাপন করেন। প্রতারক চক্রটি ডিসিকে এই নথিতে স্বাক্ষর করার জন্য বিভিন্ন লোভনীয় প্রস্তাব ও প্রলোভন দেখাতে থাকে। নথিতে উল্লেখ ছিল, উক্ত ঋণের সমপরিমাণ অর্থ আগামী ১৮ মাসের মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

তবে নথিতে কোনো বৈধ প্রাতিষ্ঠানিক নাম-ঠিকানা বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর না থাকায় জেলা প্রশাসকের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে চক্রটির অসংলগ্ন কথাবার্তায় প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর তাদের কক্ষেই আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার মৃত তোফায়েল আহমেদের ছেলে মো. মোর্শেদ আলম (৪৫), কুমিল্লার মুরাদ নগরের মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) এবং বগুড়া সদরের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. সাব্বির আলী (৪৫)।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় এক সাঁড়াশি অভিযান চালায়। সেখান থেকে এই চক্রের মূল হোতা সাব্বির আলীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কদমতলী এলাকার একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বাক্ষরযুক্ত ‘ব্লাঙ্ক চেক’ ও লিখিত স্ট্যাম্প জব্দ করে পুলিশ, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে এই চক্রটি দীর্ঘকাল ধরে এমন অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই চক্রটি একটি পেশাদার জালিয়াতি চক্র। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় পদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে এবং ভুয়া পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে আসছিল। এই চক্রের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে মামলার বাকি দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।