জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মামলার রায় ঘোষণার পর এ আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ৫৫৭ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান। রায়ে মামলার সাত পলাতক আসামিকেই মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
তবে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে সাত আসামির মধ্যে পাঁচজনের ক্ষেত্রে। তারা হলেন ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিল। সাদ্দাম হোসেন ও ওয়ালি আসিফ ইনানের সম্পত্তির বিষয়ে এ আদেশ প্রযোজ্য নয়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, ওই পাঁচ আসামির সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। পরবর্তী সময়ে এসব সম্পত্তি বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি অথবা তাদের পরিবারের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণ করতে হবে।
এ জন্য জুলাই ফাউন্ডেশন কিংবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সম্পত্তির একটি বড় অংশ বাজেয়াপ্তের এই আদেশ মামলার রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। তার আগে গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।
ফলে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে সাত পলাতক আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচজনের সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হলো।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।