‘ছাত্রদলকে সামলান, না হলে আওয়ামী লীগের মতো পতন নিশ্চিত’: রাজপথে শিবিরের চরম হুঁশিয়ারি

রাজধানীর রাজপথে বড় ধরনের শোডাউনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গণভোটের আলোকে ‘জুলাই সনদ’ এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে এই গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়।

আজ বুধবার সকাল নয়টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে বিশাল এই কর্মসূচির সূচনা করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। সমাবেশ শেষে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্রশিবিরের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের উপস্থিতিতে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী সমাবেশে অংশ নেন। এসময় অনেকের হাতেই প্লাস্টিক ও স্টিলের পাইপ দেখা গেছে, যা ছিল মূলত সাম্প্রতিক হামলার বিপরীতে প্রতিরোধের প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ।

সমাবেশে অংশ নিয়ে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট আমরা বিজয় উৎসব পালন করার স্বপ্ন দেখেছিলাম, কিন্তু আজ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের রাজপথে বক্তব্য দিতে হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য যেমন লজ্জার, তেমনি বিএনপির জন্য এবং তাদের নেতা তারেক রহমানের জন্যও চরম অপমানের।’ তিনি আরও বলেন, ‘সময় থাকতে ছাত্রদলকে সামলান। যদি তাদের লাগাম টেনে না ধরেন, তবে মনে রাখবেন ছাত্রলীগ যেমন আওয়ামী লীগের পতন ত্বরান্বিত করেছে, ছাত্রদলও তার চেয়ে দ্রুত সময়ে আপনার পতন নিশ্চিত করে আপনাকে দেশত্যাগে বাধ্য করবে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল তাঁর বক্তব্যে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখছেন না বলে মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ যে স্বৈরাচারী পথে হেঁটেছিল, ছাত্রদল ও বিএনপিও এখন সেই একই পথে পদযাত্রা শুরু করেছে। ক্যাম্পাস দখলের যে নোংরা পরিকল্পনা তারা করছে, ছাত্রশিবির সাধারণ ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে সেই সন্ত্রাস প্রতিহত করতে শতভাগ প্রস্তুত।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করতে সরকার ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে এবং এই চক্রান্ত মোকাবিলায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন জরুরি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান হামলায় মদদদাতা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের এবং তাদের সহযোগী পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার না করা হয়, তবে বুঝে নিতে হবে এই ষড়যন্ত্রের মূলে প্রশাসনের একাংশ জড়িত। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস চালিয়ে কাউকেই শান্তিতে দেশ চালাতে দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনাও ভেবেছিলেন শিবিরকে সরিয়ে দেশ দখল করবেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ছাত্রলীগকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আপনাদের পরিণতিও সেই একই হবে।’

সমাপনী বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী পক্ষ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও গণহত্যার বিচার কাজ স্থবির হয়ে আছে। গত দুই বছরে মাত্র ছয়টি মামলার রায় হলেও একটিও কার্যকর না হওয়াকে তিনি রহস্যজনক বলে অভিহিত করেন।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও সেই অন্ধকার গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে ছাত্রদলের ক্যাডাররা। বিএনপি যদি তাদের এই টোকাই বাহিনীর লাগাম টেনে না ধরে, তবে ছাত্রশিবির রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আর একবার যদি আমরা প্রতিরোধ শুরু করি, তবে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা কোনো ক্যাম্পাসে ১০ মিনিটও দাঁড়ানোর সাহস পাবে না।’

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।