দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে সেবার মান আরও উন্নত করতে এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের ১০ মেগাহার্জ স্পেকট্রামের (তরঙ্গ) বরাদ্দপত্র পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে যাবতীয় নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ডিমান্ড নোট’ গ্রহণ করেছে গ্রামীণফোন।
এই নতুন স্পেকট্রামটি আগামী ১৩ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই তরঙ্গ বরাদ্দের বিনিময়ে গ্রামীণফোন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব খাতে প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা অবদান রাখবে। বিশাল অংকের এই বিনিয়োগ শুধু বর্তমান নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতেই নয়, বরং দেশের আট কোটি ৩৯ লাখের বেশি গ্রাহকের ডেটা ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে বিশ্বমানের করে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার। আধুনিক প্রযুক্তির এই সংযোজন গ্রামীণফোনের সামগ্রিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে ৭০০ মেগাহার্জ স্পেকট্রামের ‘লো-ব্যান্ড’ বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত কার্যকর। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ার কারণে প্রতিটি বেস স্টেশন থেকে অনেক বেশি এলাকায় কভারেজ প্রদান করা সম্ভব হয়। এর ফলে ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকায় গ্রাহকরা ভবনের ভেতরেও অত্যন্ত শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ‘ইনডোর সিগন্যাল’ পাবেন। পাশাপাশি, দেশের প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। এই তরঙ্গ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণফোন অত্যন্ত দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে পারবে।
এই মাইলফলক অর্জন প্রসঙ্গে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, “আমরা এই স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছি। এর পরবর্তী ধাপে এই ব্যান্ড ব্যবহার করে দেশব্যাপী আধুনিক সেবা চালু করতে আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ করা হবে। এটি আমাদের সেবার মানের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন এবং গ্রাহকদের সর্বোত্তম ডেটা নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, ফোরজি সেবার কার্যকারিতা বাড়াতে এই লো-ব্যান্ড স্পেকট্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফাইভ জি (5G), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলো স্থাপনের পথ সুগম করবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা উচ্চগতির ডেটা ব্যবহারের পাশাপাশি ল্যাটেন্সি কমিয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল পরিবেশে উন্নত অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য তিনি বিটিআরসি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।