আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিসি) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের কোনো ধরনের ‘কনফ্লিক্ট’ (সাংঘর্ষিক) হওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচারের সুযোগ আরও সুস্পষ্ট হয়েছে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলে গুমের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের কোনো সাংঘর্ষিকতা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই। বরং বিলে নির্ধারিত পরিস্থিতি অনুযায়ী গুমের ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়লে সেটির বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হতে পারে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, গুম যদি ব্যাপক মাত্রায় সংঘটিত হয় অথবা একই ধরনের কিংবা পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত হয়, তাহলে সেটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে ওই অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল পাসের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন আমিনুল ইসলাম। তার মতে, এই আইনের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এটিকে একটি মাইলফলক হিসেবেও উল্লেখ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, বিলে গুমের সংজ্ঞা যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে অন্য কোনো আইনের সঙ্গেও ‘কনফ্লিক্ট’ হওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন আইনের মাধ্যমে গুমের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে।
এ সময় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের আওতায় গুমের সংজ্ঞা সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দেন তিনি। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এখন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি কাউকে আটক রাখে, তাহলে সেটি গুম হিসেবে গণ্য হবে।
আইনের এই বিধানের ফলে গুমের অভিযোগ ও এর বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে একটি নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে কোনো ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পৌঁছালে সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় বিচারের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।