'গডজিলা'র সেই ছোট্ট ‘জিয়া’ আর নেই; মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন জনপ্রিয় তরুণী অভিনেত্রী

হলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘গডজিলা’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া কোরিয়ান-আমেরিকান উদীয়মান অভিনেত্রী কেলি হটল আর নেই। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফ্রেডেরিক কাউন্টিতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে এই প্রতিভাবান শিল্পীর অকাল প্রয়াণে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ফ্রেডেরিক কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার ভোর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে। একটি হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ি দুই লেনের একটি সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী একটি কালভার্টে সজোরে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা দুজন যাত্রীর মধ্যে একজন ছিলেন কেলি হটল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত একটি বিশেষায়িত ‘ট্রমা সেন্টারে’ নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শেরিফের কার্যালয় থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, গাড়ির অতিরিক্ত গতিই এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। দুর্ঘটনায় গাড়ির চালকও আহত হয়েছেন, তবে তাঁর আঘাত বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে।

কেলি হটলের চলচ্চিত্র জীবনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া বিশ্বখ্যাত ব্লকবাস্টার মুভি ‘গডজিলা ভার্সেস কং’-এর মাধ্যমে। সেই ছবিতে তিনি ‘জিয়া’ নামক এক কালজয়ী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয় জয় করে নিয়েছিলেন। জিয়া ছিল স্কাল আইল্যান্ডের ইওই জনগোষ্ঠীর এক শ্রবণপ্রতিবন্ধী এতিম শিশু, যে মূলত সাংকেতিক ভাষার মাধ্যমে দানবাকৃতির কিং কংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারত। ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিরিজের পরবর্তী কিস্তি ‘গডজিলা ভার্সেস কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’-এও তিনি একই চরিত্রে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তাঁর এই অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালের ‘স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ডস’-এ তিনি তরুণ অভিনয়শিল্পীর সেরা পারফরম্যান্স বিভাগে মর্যাদাপূর্ণ মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

জর্জিয়ার আটলান্টায় জন্মগ্রহণ করা কেলি হটল বাস্তব জীবনেও ছিলেন এক লড়াকু যোদ্ধা। তাঁর বাবা আমেরিকান এবং মা কোরিয়ান বংশোদ্ভূত। তিনি নিজেও জন্মগতভাবে শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছিলেন এবং অস্টিনের ‘টেক্সাস স্কুল ফর দ্য ডেফ’-এ দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিলেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে তুচ্ছ করে হলিউডের বড় পর্দায় নিজের জায়গা করে নেওয়া এই কিশোরী কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভক্ত-অনুরাগী থেকে শুরু করে তাঁর সহকর্মী ও পরিবার এক গভীর শূন্যতার সম্মুখীন হলো।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।