খাবারের উৎসবে রক্তের হোলি: সিয়াটলে বন্দুকধারীদের তাণ্ডবে শিশুসহ হতাহত একাধিক, নেপথ্যে কারা?

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটল শহরে এক আনন্দঘন খাবারের উৎসব মুহূর্তেই বিষাদ আর আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। শহরের আইকনিক ল্যান্ডমার্ক ‘স্পেস নিডল’ পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের নিকটবর্তী সিয়াটল সেন্টারে বন্দুকধারীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে অন্তত দুজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক শিশুসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সন্ধ্যায় যখন হাজার হাজার মানুষ উৎসবে মেতেছিলেন, ঠিক তখনই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটে। সিয়াটল ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই হামলায় একাধিক বন্দুকধারী অংশ নিয়ে থাকতে পারেন। সিয়াটল পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানানো হয়েছে যে, সিয়াটল সেন্টারে যখন জনপ্রিয় ‘বাইট অফ সিয়াটল’ উৎসব চলছিল, তখনই মারণাস্ত্রের গর্জনে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। উল্লেখ্য, এই উৎসবে শত শত খাদ্য বিক্রেতা তাঁদের পসরা নিয়ে বসেন এবং স্থানীয় ও পর্যটকদের জন্য গান-বাজনার এক বিশাল ‘প্যাকেজ’ আয়োজন করা হয়। ঠিক এমন একটি জনাকীর্ণ স্থানে বন্দুকধারীদের এমন হঠকারী হামলা পুরো আমেরিকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আবারও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ঘটনাস্থলেই দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আহতদের অবস্থা জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আহতদের মধ্যে মাত্র দুই বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে, যাকে বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ৫৬ বছর বয়সী এক নারীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বা ‘ক্রিটিক্যাল’ বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। অন্য এক ব্যক্তি সামান্য আহত হলেও তিনি হাসপাতালে না গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ বোধ করছেন। তবে ঘাতকদের ছোঁড়া বুলেটে ঠিক কতজন সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিত করতে ব্যাপক ‘ইনভেস্টিগেশন’ বা তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

সিয়াটল সেন্টারের এই ভয়াবহ ঘটনার পর পুরো শহর জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উৎসবের সেই আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই পুলিশের সাইরেন আর মানুষের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে। হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে কি না কিংবা তাদের কাউকে চিহ্নিত করা গেছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী। বন্দুক সহিংসতার এই নতুন ‘ভাইরাস’ যেভাবে জনসমাগমস্থলে থাবা বসাচ্ছে, তা নিয়ে মার্কিন সচেতন মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।