গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকারকে এই গুরুত্বপূর্ণ নগর সংস্থার পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এই আদেশে বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ২৫ ক ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী এই নিয়োগ কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নবগঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী কোনো আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত শওকত হোসেন সরকার পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নগরীর যাবতীয় কার্যাবলি তদারকি করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নবনিযুক্ত এই প্রশাসক উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ২৫ (ক)-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রীয় বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা প্রাপ্ত হবেন।
মো. শওকত হোসেন সরকার গাজীপুরের স্থানীয় রাজনীতির একজন অত্যন্ত পরিচিত এবং অভিজ্ঞ মুখ। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ঝুলিও বেশ সমৃদ্ধ; ইতিপূর্বে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ সময় সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা এই নেতার স্থানীয় উন্নয়ন ও জনসেবায় পূর্বের অভিজ্ঞতা নগর পরিচালনায় সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরে একটি সংসদীয় আসন বৃদ্ধির ফলে নবগঠিত গাজীপুর-২ আসনে তিনি শক্তিশালী সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তবে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের এক নির্দেশনায় আসন বিন্যাসের ওই সিদ্ধান্তটি অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁর সংসদীয় প্রার্থিতার পথটি রুদ্ধ হয়ে যায়। এবার সিটি করপোরেশনের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে তাঁর এই নিয়োগ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।