এমপি নজরুল ও স্ত্রীর রিমান্ড চেয়ে পুলিশের আবেদন

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ আবেদন করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার রিমান্ডের আবেদন করেন। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পক্ষে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথমত, মরিয়ম ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যুবরণ করার সময় একই বাসায় এজাহারনামীয় গ্রেপ্তার আসামিরা ছিলেন। ওই পরিস্থিতিতে মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় তাদের কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা উদঘাটন করতে চায় পুলিশ।

দ্বিতীয়ত, মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় সহায়তা করার ক্ষেত্রে আসামিদের ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে চায় তদন্তকারী সংস্থা।

তৃতীয়ত, মামলায় পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চতুর্থত, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি তদন্তে খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ।

পঞ্চমত, মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহারে মরিয়মকে বিয়ের পর থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর বাবার অভিযোগ, এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় তা নির্ধারিত হবে।

এদিকে, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২১ জুলাই ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্লবী থানায় মামলা করেছিলেন মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছিল। পরে ১০ আগস্ট ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান তিনি।

বর্তমানে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সেই ওবায়দুর রহমানকেই পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, নতুন মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং মামলার প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে চায় তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।