হানসি ফ্লিকের অধীনে নতুন মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বার্সেলোনা সেই ধারাবাহিকতা আরও একবার দেখাল মাঠে। লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোল এবং ফেরমিন লোপেজের দারুণ পারফরম্যান্সে ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। বড় এই জয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে বার্সেলোনা।
শনিবার রাতের ফুটবল আলোচনায় অবশ্য শুধু বার্সেলোনাই ছিল না। আলোচনায় ছিলেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও। যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর প্রথম ক্লাব ম্যাচে মাঠে নেমে দুটি গোলে সহায়তা করেও ইন্টার মিয়ামিকে জয় এনে দিতে পারেননি মেসি। আটলান্টা ইউনাইটেডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে ইন্টার মিয়ামি।
অন্যদিকে সৌদি আরবে হতাশার রাত কেটেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আল নাসরের। আল ইত্তিহাদের কাছে ২-১ গোলে হেরে সৌদি প্রো লিগের চলতি মৌসুমে প্রথমবার পয়েন্ট হারিয়েছে আল নাসর। আর ইতালিতে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তনে নাপোলিকে হারিয়েছে ইন্টার মিলান। সান সিরোয় নাটকীয় ওই ম্যাচে নাপোলি ২-০ গোলে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্বাগতিক ইন্টার মিলান।
তবে দিনের অন্যতম আলোচিত পারফরম্যান্স এসেছে বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের কাছ থেকে। ম্যাচের শুরু থেকেই ভ্যালেন্সিয়ার ওপর চাপ তৈরি করে খেলতে থাকে বার্সা। মাত্র ৫ মিনিটেই ফেরমিন লোপেজের বাড়ানো দারুণ থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণ ভেঙে গোলমুখ খোলেন ইয়ামাল। শুরুতেই পাওয়া এই গোল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কাতালানদের হাতে তুলে দেয়।
২২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেরমিন লোপেজ। অ্যান্থনি গর্ডনের অ্যাসিস্ট থেকে পাওয়া বলে জোরালো শটে ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক স্তোলে দিমিত্রিভস্কিকে পরাস্ত করেন তিনি। চলতি মৌসুমে চার ম্যাচে এটি লোপেজের চতুর্থ গোল। একই সময়ে গর্ডনের অ্যাসিস্টের সংখ্যাও দাঁড়ায় চারটিতে।
প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বার্সেলোনা। বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমায়নি হানসি ফ্লিকের দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফেরমিন লোপেজের সহায়তায় দলের তৃতীয় গোলটি করেন নিজের সাবেক ক্লাব লিডস ইউনাইটেডের উইঙ্গার রাফিনহা। স্প্যানিশ শীর্ষ লিগে এটি রাফিনহার ৫০তম গোল।
এরপর ম্যাচ যত এগিয়েছে, বার্সেলোনার আধিপত্যও তত স্পষ্ট হয়েছে। ৭৯ মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলের চতুর্থ গোলটি করেন পেদ্রি। এতে ভ্যালেন্সিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ আশাটুকুও কার্যত শেষ হয়ে যায়।
ম্যাচের শেষদিকে আবারও আলো ছড়ান ইয়ামাল। দানি ওলমোর অ্যাসিস্ট থেকে নিজের দ্বিতীয় এবং বার্সেলোনার পঞ্চম গোলটি করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ের পূর্ণতা পায় কাতালানদের গোল উৎসব। ইয়ামালের জোড়া গোল, লোপেজের গোল ও সহায়তা এবং পুরো ম্যাচজুড়ে বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবল দলটির দুর্দান্ত শুরুর ধারাবাহিকতাই তুলে ধরেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।