আসিয়ান কাপের আগে একাধিক সমস্যা, কার্যকর ফরোয়ার্ড খুঁজছেন কোচ ডুলি

আসিয়ান কাপের আসর যতই এগিয়ে আসছে, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সামনে ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। চোটের ধাক্কা, ফিটনেসে ঘাটতি এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দলে স্বীকৃত কোনো ‘নাম্বার নাইন’ বা সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড না থাকা-সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টের আগে স্বস্তিতে নেই কোচ টমাস ডুলি।

আজ কিংস অ্যারেনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ডুলি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে জাতীয় দলের প্রস্তুতির ঘাটতি, খেলোয়াড়দের ফিটনেস সমস্যা এবং আক্রমণভাগ নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো।

সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের পর দেশের বেশির ভাগ খেলোয়াড় প্রায় দুই মাস নিয়মিত দলীয় অনুশীলনের বাইরে ছিলেন। সেই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে গত ২৭ আগস্ট থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু করা হয়। তবে স্বল্প সময়ে খেলোয়াড়দের কাঙ্ক্ষিত শারীরিক অবস্থায় নিয়ে আসা কোচিং স্টাফের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডুলি বলেন, সান মারিনো ম্যাচের পর বেশির ভাগ খেলোয়াড় নিয়মিত দলীয় অনুশীলনে ছিলেন না। বিদেশে থাকা খেলোয়াড়েরা অবশ্য নিজেদের ক্লাবের হয়ে ম্যাচ ও প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতিতে ছিলেন। তবে দেশের স্থানীয় খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ ছিল না।

এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করতে ক্যাম্পের শুরু থেকেই অনুশীলনের চাপ বাড়াতে হয়েছে। দিনে দুইবার অনুশীলন করানোর ফলে কয়েকজন খেলোয়াড়ের পেশিতে টানও দেখা দিয়েছে বলে জানান কোচ।

ডুলির ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাচ শুরুর প্রায় চার সপ্তাহ আগে অনুশীলন শুরু হওয়ায় খেলোয়াড়দের ফিট করে তোলার জন্য কিছুটা সময় পাওয়া গেছে। তবে সেই সময়ের মধ্যে বড় ধরনের কাজের চাপ নিতে হয়েছে, যার অংশ হিসেবে দিনে দুবার অনুশীলন করানো হয়েছে।

এরই মধ্যে জামাল ভূঁইয়া ও ফয়সাল আহমেদ সামান্য পেশির টানে ভুগেছেন। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে বিশ্বনাথ ঘোষের চোটে। তাঁর চোট গুরুতর হওয়ায় প্রায় চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ফলে আসিয়ান কাপে এই ডিফেন্ডারকে পাওয়া যাবে না।

চোট ও ফিটনেসের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তার জায়গা আক্রমণভাগ। দলে নেই কোনো স্বীকৃত ‘নাম্বার নাইন’। ডুলির মতে, এটি শুধু জাতীয় দলের সমস্যা নয়, দেশের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামোর সঙ্গেও বিষয়টি জড়িত।

কোচ বলেন, জাতীয় দলে কোনো প্রথাগত নাম্বার নাইন নেই। কেন দেশের লিগে এমন খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, ঘরোয়া ক্লাবগুলো নিয়মিতভাবে ৯ নম্বর পজিশনে বিদেশি খেলোয়াড় ব্যবহার করায় স্থানীয় সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড তৈরির সুযোগ কমে যাচ্ছে।

বিশ্বনাথ ঘোষকে আক্রমণভাগে খেলানোর পরিকল্পনা ছিল ডুলির। সান মারিনোর বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্সও সেই পরিকল্পনাকে উৎসাহিত করেছিল। কিন্তু চোটের কারণে এখন সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হচ্ছে কোচকে।

বিকল্প হিসেবে রাকিব, মজিবুর রহমান ও শাহরিয়ার ইমনের মধ্য থেকে কাউকে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে তৈরি করার কথা ভাবছেন ডুলি। তবে এখনো কাউকে চূড়ান্ত করেননি তিনি।

ডুলির ভাষায়, ওই পজিশনের জন্য অবশ্যই একজনকে খুঁজে বের করতে হবে, যে দলকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করতে পারে। তাঁর মাথায় রাকিব, মজিবুর ও ইমনের নাম রয়েছে। অনুশীলন ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কে এগিয়ে আসতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে গোল করার প্রস্তুতিতেও এখনো পুরোপুরি ঢোকেনি বাংলাদেশ। কোচের অগ্রাধিকার আপাতত খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করা। এরপর শুরু হবে শুটিং ও ফিনিশিংয়ের অনুশীলন।

সমস্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে প্রস্তুতির সময়ও। ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপ অভিযান শুরু হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

অর্থাৎ হাতে খুব বেশি সময় নেই। এর মধ্যেই খেলোয়াড়দের চোট কাটিয়ে ম্যাচ খেলার উপযোগী করে তোলা, ফিটনেসের ঘাটতি পূরণ এবং একজন কার্যকর সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড খুঁজে বের করতে হবে ডুলিকে। আসিয়ান কাপের আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলো এখন সেখানেই।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।