সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি সত্যিই মানুষের মধ্যে কোনো 'ক্লিনিক্যাল আসক্তি' তৈরি করে? এই প্রশ্নটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে চলমান মামলায় জবানবন্দি দিতে গিয়ে ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি দাবি করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্লিনিক্যালি আসক্ত’ হওয়া প্রকৃতপক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর মতে, কোনো ব্যবহারকারী হয়তো ‘সমস্যাজনক হারে’ এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু একে প্রথাগত নেশা বা আসক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা ঠিক হবে না।
মামলাটি দায়ের করেছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণী, যাকে আইনি নথিতে ‘কেলি’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। কেলির অভিযোগ, মেটা কোম্পানি (ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান) জেনেশুনে এমন কিছু ‘ফিচার’ তৈরি করেছে যা কিশোর-কিশোরীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখে। তাঁর দাবি, ‘ইনফিনিট স্ক্রল’, ‘অটোপ্লে’, ‘লাইক বাটন’ এবং ‘বিউটি ফিল্টার’-এর মতো প্রযুক্তিগুলো কিশোর-কিশোরীদের মনে কৃত্রিম আসক্তি তৈরি করে, যা সরাসরি তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কেলি নিজে দিনে ১৬ ঘণ্টার বেশি সময় ইনস্টাগ্রামে কাটিয়েছেন বলে আদালতে তথ্য পেশ করা হয়েছে। তবে মোসেরি একে ‘সমস্যাজনক ব্যবহার’ হিসেবে মেনে নিলেও আসক্তি বলতে রাজি হননি।
আদালতের শুনানিতে মোসেরির ব্যক্তিগত আয় এবং জীবনযাত্রার বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি জানান, তাঁর মূল বার্ষিক বেতন প্রায় ৯ লাখ মার্কিন ডলার। তবে বোনাস এবং প্রতিষ্ঠানের শেয়ারসহ তাঁর মোট আয়ের পরিমাণ বছরে ১ থেকে ২ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে। যদিও তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন যে, পণ্যের কোনো কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত শেয়ার বা মুনাফার বিষয়টি প্রভাব ফেলে না। তাঁর মতে, কিশোর ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মেটার আয় অন্যান্য শ্রেণির তুলনায় বেশ কম।
মেটার পক্ষ থেকে এই মামলার প্রেক্ষিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট তরুণীর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য কেবল তাদের প্ল্যাটফর্ম দায়ী নয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কেলির পারিবারিক অস্থিরতা এবং ব্যক্তিগত জটিলতাও তাঁর মানসিক অবস্থার জন্য অনেকাংশে দায়ী। বর্তমানে মামলাটি জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্বের নজর এখন এই ঐতিহাসিক রায়ের দিকে, কারণ এটিই নির্ধারণ করতে পারে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কতটা দায়ী থাকবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।