আইফোন ও টাকার লোভে কলেজছাত্রকে হত্যা: চার বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আটক ২

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একটি ‘আইফোন’ (স্মার্টফোন) ও সামান্য কিছু নগদ টাকার লোভে চরম নির্মমতার শিকার হয়েছে এক তরুণ। মাদকের টাকা জোগাড় করতে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এক কলেজছাত্রকে হত্যার পর লাশ গুম করার মতো ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে তার নিজেরই চার বন্ধুর বিরুদ্ধে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার রাতে পৃথক স্থান থেকে অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।


নিহত ওই হতভাগ্য কিশোরের নাম সিয়াম মোল্যা (১৭)। সে মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের বাসিন্দা এবং ইতালিপ্রবাসী লিখন মোল্যার ছেলে। সিয়াম স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিল।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মার্চ থেকে হঠাৎ করেই নিখোঁজ ছিল তরুণ সিয়াম। এরপর গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রাম এলাকার একটি পুকুরের কচুরিপানার ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সন্দেহ জাগে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে মুকসুদপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পুকুরের ঘন কচুরিপানার নিচ থেকে নিখোঁজ সিয়ামের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে।


মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, ৭ মার্চ থেকেই সিয়াম নিখোঁজ ছিল। গতকাল পুকুর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার খবরে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশের তৎপরতায় সোমবার রাতেই দুই বন্ধুকে আটক করা হয়।


আটক হওয়া ওই দুই কিশোরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়, নিহত সিয়ামের কাছে একটি দামি ‘আইফোন’ ও কিছু নগদ টাকা ছিল। মূলত সেই স্মার্টফোনটি বিক্রি করে এবং নগদ টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে মাদকের অর্থ জোগাড় করার জন্যই এই ভয়ংকর ছক কষেছিল তার চার বন্ধু। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৭ মার্চ তারা সিয়ামকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পুকুরের কচুরিপানার নিচে অত্যন্ত সুকৌশলে তার মরদেহ লুকিয়ে রাখে ঘাতকরা।


এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে। আটক হওয়া আসামিদের আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত পলাতক বাকি দুই অভিযুক্ত কিশোরকে দ্রুত আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।