রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলোর একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সিন্ডিকেট এবং তেল চুরির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই চিরুনি অভিযানের অংশ হিসেবে এবার দুদকের বিশেষ নজরে এসেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত আলোচিত ‘ব্রাজিল বাড়ি’। আজ বৃহস্পতিবার দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট ইউনিট ওই বাড়িতে এবং সংশ্লিষ্ট তেল ডিপোতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে।
দুদকের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘তেল চুরি’, ‘ব্রাজিল বাড়ি’ ও মালিকের ‘আয়েশি জীবন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি কমিশনের নজরে আসে। যমুনা তেল কোম্পানি লিমিটেডের গেজার ও শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) প্রভাবশালী নেতা জয়নাল আবেদীন ওরফে টুটুলের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এই টুটুলই মূলত ফতুল্লার সেই সুপরিচিত ‘ব্রাজিল বাড়ি’র মালিক। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ একজন কর্মচারী হয়েও তেল চুরির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
তদন্তের প্রাথমিক ধাপে আজ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি দল যমুনা তেল কোম্পানির নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা ডিপো কার্যালয়ে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। এনফোর্সমেন্ট টিম সেখানে গিয়ে জয়নাল আবেদীন টুটুলের দুর্নীতির সূত্র খুঁজতে ডিপোর ২২ ও ২৩ নম্বর স্টোরেজ ট্যাংকের ‘ক্যালিব্রেশন’ (মজুত সক্ষমতা) চার্ট সংগ্রহ করেছে। এছাড়া গত কয়েক বছরে ওই ডিপোতে কী পরিমাণ তেল এসেছে এবং কতটুকু সরবরাহ করা হয়েছে, তার যাবতীয় সরকারি ‘রেকর্ড’ ও নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।
ডিপোতে অভিযানের পর দুদকের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেন জয়নাল আবেদীনের নির্মিত সেই বিলাসবহুল ‘ব্রাজিল বাড়ি’। পরিদর্শনকালে আয়েশি এই স্থাপনা নির্মাণে ব্যয়ের উৎস এবং টুটুলের অন্যান্য অবৈধ সম্পদ সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগৃহীত যাবতীয় রেকর্ডপত্র এবং তথ্যগুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করে খুব দ্রুতই কমিশনের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে এনফোর্সমেন্ট টিম। এরপরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এই বাড়িটির পরিচিতির নেপথ্যে রয়েছে ফুটবল উন্মাদনা। ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার এই ছয়তলা বাড়িটির পুরো দেওয়াল ব্রাজিলের পতাকার রঙে রাঙিয়েছিলেন টুটুল। বাড়ির ফলকে বড় করে লিখেছিলেন ‘ব্রাজিল বাড়ি’। সেই সময় বিষয়টি এতটাই আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল যে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত জোয়াও তাবাজারা ডি অলিভেইরা জুনিয়র সশরীরে বাড়িটি পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। তবে নান্দনিক সৌন্দর্যের আড়ালে এই আয়েশি জীবনের পেছনে সরকারি তেল চুরির কালো টাকা জড়িত কি না, এখন সেটিই খতিয়ে দেখছে দুদক।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।