অবৈধ মজুতদারদের জালে সরকার; ১৬ জনের কারাদণ্ডসহ উদ্ধার বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল।

দেশের জ্বালানি বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আওতায় দেশের ৬৪টি জেলাতেই প্রশাসনের তীক্ষ্ণ নজরদারি বজায় ছিল।


আজ সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তথ্যগুলো উপস্থাপন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি জানান, বাজার মনিটরিং এবং অবৈধ মজুত রোধে মাত্র কয়েক সপ্তাহে সারা দেশে মোট ৩ হাজার ১৬৮টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে সরবরাহকৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ জ্বালানির মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ লিটার। এছাড়া মজুতদারদের গোপন আস্তানা থেকে ২২ হাজার ৫৩৯ লিটার অকটেন এবং ৪৬ হাজার ১৪৬ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে জ্বালানি তেল সরিয়ে রেখে বাজারে অস্থিরতা তৈরির এই অপপ্রয়াস রুখতে সরকার আইনগতভাবে অত্যন্ত কঠোর ভূমিকা পালন করছে।


অভিযান চলাকালীন অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ১৬ জন অসাধু ব্যবসায়ীকে তাৎক্ষণিকভাবে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ মজুতদারদের কাছ থেকে মোট ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ‘সিন্ডিকেট’ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের এই সক্রিয়তা অব্যাহত রাখা জরুরি। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।