রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ২৬ জন যাত্রীর অকাল মৃত্যু এবং ৫ জন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ সেই বাসটির (রাজবাড়ী-ব-১১-০০২৪) রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিআরটিএ-র এই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেলের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী মুহাম্মদ অহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়। আদেশে ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ এবং ‘সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২’ অনুযায়ী বাসটির রেজিস্ট্রেশন স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, কেন এই বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না—সে মর্মে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে বিআরটিএ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য মালিক পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, বাসের মালিককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মূল রেজিস্ট্রেশন সনদ, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সার্টিফিকেট, রুট পারমিট এবং চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ যাবতীয় নথিপত্র বিআরটিএ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। যদি মালিক পক্ষ সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়, তবে রেজিস্ট্রেশন স্থায়ীভাবে বাতিলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিআরটিএ-র প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি গভীর পদ্মায় তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক লিটন কুমার দত্ত ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই দুর্ঘটনার ফলে যে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, তা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি করেছে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, এই নির্দেশের অনুলিপি ইতিমধ্যে বিআরটিএ-র সদর দফতর, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপারসহ (এসপি) প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলমান রয়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এই কঠোর পদক্ষেপ সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।