বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে সৃষ্ট দীর্ঘ ২২ ঘণ্টার চরম দুর্ভোগ ও অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। টানা উদ্ধার অভিযানের পর আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ওই রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে। এর আগে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন আকস্মিকভাবে আটকা পড়েছিল। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সারা দেশের সঙ্গে উত্তরের জেলা নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সব ধরনের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এতে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে যে ৯ জোড়া ট্রেন আটকা পড়েছিল, তার মধ্যে রয়েছে—পঞ্চগড় ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী ৩ জোড়া ট্রেন, নীলফামারী ও খুলনার মধ্যে চলাচলকারী ২ জোড়া এবং একই রুটে (নীলফামারী-খুলনা) চলাচলকারী আরও ২ জোড়া ট্রেন। এছাড়া, রাজশাহী ও নীলফামারীর মধ্যে চলাচলকারী বরেন্দ্র ও তিতুমীর এক্সপ্রেসের ২ জোড়া ট্রেনও এই আটকা পড়া ট্রেনের তালিকায় ছিল।
পবিত্র ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো বিপুল সংখ্যক যাত্রী এই ট্রেনগুলোতে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা শান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকার দুই প্রান্তে চরম বিপাকে পড়েন। তবে যাত্রীদের এই অমানবিক দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করতে বিকল্প উপায়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ অন্য যানবাহনের মাধ্যমে এপার-ওপার করে তাঁদেরকে নিরাপদভাবে অন্য ট্রেনে তুলে দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
এদিকে, এই দুর্ঘটনার মূল কারণ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখতে রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে রেলওয়ের মেকানিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যাল ও অপারেটিং বিভাগের প্রধানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁদেরকে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য কঠোর ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মূলত ‘হিউম্যান ফেইলিয়র’ বা সংশ্লিষ্টদের চরম দায়িত্বহীনতার কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি আরও জানান, এখন হয়তো অনেকেই নিজেদের দায় এড়াতে একজনের দোষ অন্যজনের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন। তবে তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই দুর্ঘটনার আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সার্বিক উদ্ধারকাজ প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা জানান, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকেই রেললাইন সম্পূর্ণ ‘ফিট’ করা সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে ট্রেনের ছয়টি বগি ‘গ্রাউন্ডেড’ হয়ে গিয়েছিল, যা যথাযথ মেরামত করা ছাড়া মূল লাইনে তোলা কোনোভাবেই সম্ভবপর ছিল না।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।