বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের বিশেষায়িত হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৪টি শিশু ভর্তি হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে এই নতুন রোগীরা ভর্তি হয়। গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু করে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে সর্বমোট ভর্তি হয়েছে ২০৫ জন শিশু। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৩২ জন। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এই সময়ের মধ্যে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণে মোট ৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের বিশেষায়িত ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৭ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেয়েছে আরও ২৩ জন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে একজন-দুজন করে হামের লক্ষণযুক্ত রোগী আসা শুরু করে। তবে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে এই সংক্রমণের হার তীব্র হতে শুরু করে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে দ্রুততার সাথে হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট একটি পৃথক ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে সেখানে তিনটি অভিজ্ঞ মেডিকেল টিম গঠন করে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যদিও এই সময়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবে সংক্রমণের ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রোগীদের ম্যানেজমেন্ট করছি এবং চিকিৎসকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে এমন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। ময়মনসিংহে হামের এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রকোপ মোকাবিলায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।