আসন্ন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নেওয়ার উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। জননিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (টিএসসি) মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ কার্যপত্রে এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত টিএসসি এলাকায় উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্টেশনটি বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক বৈশাখী শোভাযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণকারীরা কোনোভাবেই মুখে মুখোশ পরে মিছিলে অংশ নিতে পারবেন না। তবে শিল্পকর্ম হিসেবে মুখোশ হাতে বহন করা যাবে, কিন্তু তা এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না যাতে কারও মুখ ঢাকা পড়ে। এছাড়া শোভাযাত্রার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একবার যাত্রা শুরু হওয়ার পর মাঝপথে নতুন করে কাউকে এতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
আয়োজনের সময়সীমা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান বেশ কঠোর। নির্দেশ অনুযায়ী, রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরের মতো জনপ্রিয় জনসমাগমস্থলগুলোতে বিকেল ৫টার পর আর কোনো নতুন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না। একইসাথে ঢাকা শহরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত নববর্ষের সকল অনুষ্ঠান আবশ্যিকভাবে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। জননিরাপত্তার স্বার্থেই এমন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে শোভাযাত্রায় ইংরেজি বা অন্য কোনো বিদেশি ভাষার এবং ভিন্ন উদ্দেশ্যমূলক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া উৎসবে অংশ নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত নববর্ষের অনুষ্ঠানমালার নিরাপত্তার বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর নির্দেশাবলী বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব পালনে প্রশাসনের এই উদ্যোগগুলো নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া