তেলের বাজারে সরকারের সাঁড়াশি অভিযান: একদিনেই উদ্ধার বিশাল জ্বালানির মজুত

 দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অবৈধ মজুতদারদের সিন্ডিকেট ভাঙতে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে প্রায় ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার অবৈধভাবে মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে চলতি মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার বিভিন্ন ধরণের জ্বালানি তেল জব্দ করা হলো।


আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র এবং যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলায় সর্বমোট ৩ হাজার ৫৫৯টি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শুধুমাত্র সোমবার (৩০ মার্চ) একদিনেই পরিচালিত হয়েছে ৩৯১টি বিশেষ অভিযান। এসব অভিযানে অনিয়ম ধরা পড়ায় ১৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসাথে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৭০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মজুতদারির অভিযোগে সাতক্ষীরা, গাজীপুর ও চাঁদপুরে একজন করে মোট তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।


সোমবারের অভিযানে জব্দকৃত তেলের হিসাব তুলে ধরে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত তেলের মধ্যে রয়েছে ৬৭ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল, ৬ হাজার ৪৪৪ লিটার অকটেন এবং ১৩ হাজার ৮৫৬ লিটার পেট্রল।


পুরো মার্চ মাসের চিত্র তুলে ধরে জ্বালানি বিভাগ জানায়, এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ২৪৪টি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছে ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা। অসাধু কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে এখন পর্যন্ত মোট ১৯ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুরো মাসে উদ্ধারকৃত ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার তেলের মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬৫ লিটার, অকটেন ২৮ হাজার ৯৩৮ লিটার এবং পেট্রল ৬০ হাজার ২ লিটার।


বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা চললেও দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন ডিজেল, ৭ হাজার ৯৪০ টন অকটেন, ১১ হাজার ৪৩১ টন পেট্রল এবং ৪৪ হাজার ৬০৯ টন জেট ফুয়েল মজুত আছে।


যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “জ্বালানি তেলের নিয়মিত আমদানি ও খালাস প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে দেশে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে কিছু অসাধু চক্র বাজারে অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি করে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই অবৈধ মজুত রোধ এবং সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে সারা দেশে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।